নিউস ত্রিপুরা প্রতিনিধিঃ
'বাড়ি বাড়ি পানীয় জল' পৌঁছে দেওয়ার সরকারি ঢাকঢোল পিটানো হলেও, বাস্তবের চিত্রটা যে কতটা করুণ—তার এক জ্বলন্ত উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে উত্তর ত্রিপুরার বাগবাসাবিধানসভার গোবিন্দপুর ৫ নম্বর ওয়ার্ড । বাড়ি বাড়ি জলের পাইপলাইন বসে গেছে ঠিকই, কিন্তু মাসের পর মাস পেরিয়ে গেলেও সেই পাইপ দিয়ে বের হয় না এক ফোঁটা জল। ফলে তীব্র জলসংকটে ভুগছেন বাগবাসা বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত গোবিন্দপুর ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা।
এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন ধরে পানীয় জলের তীব্র সমস্যায় ভুগতে ভুগতে একপ্রকার বাধ্য হয়েই এলাকাবাসীরা সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর হেল্পলাইন নম্বরে যোগাযোগ করেন। মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরের হস্তক্ষেপে এলাকায় একটি বোরওয়েল বা পাকা নলকূপ তৈরির কাজ শুরু হয় এবং কাজটি মোটামুটি সম্পন্ন তার আগেই কিন্তু কোন এক অজ্ঞাত কারণে বিগত প্রায় ছয় মাস ধরে সেই জলপ্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে পড়ে রয়েছে।
এলাকাবাসীদের অভিযোগ, এই পাড়ার প্রায় ৩০ থেকে ৩৫টি পরিবারের প্রত্যেকের বাড়িতে জলের পাইপলাইন সংযোগ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু পাইপলাইন থাকা সত্ত্বেও জল মিলছে না। কারণ, নলকূপ থেকে জল তোলার জন্য প্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক মোটর এবং সোলার সিস্টেম এখনও বসানো হয়নি। শুধু তাই নয়, নলকূপের মূল উৎস থেকে মাত্র চার-পাঁচ হাত দূরে থাকা প্রধান পাইপলাইনের সাথে সংযোগটুকুই করা হয়নি। ফলে কয়েক লক্ষ টাকার সরকারি পরিকাঠামো অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে।
গ্রামবাসীরা আরও জানান, পানীয় জলের এই হাহাকার নিয়ে তাঁরা স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধান তনবি সিনহার দ্বারস্থ হয়েছিলেন। প্রধানের উদ্যোগে প্রথম কিছুদিন ট্যাঙ্কারের মাধ্যমে পানীয় জল সরবরাহ করা হলেও, বিগত প্রায় দুই-তিন মাস ধরে তাও সম্পূর্ণ বন্ধ। ফলে এই তীব্র গরমে পানীয় জলের জন্য হন্যে হয়ে ঘুরে বেড়াতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের।
এলাকার ক্ষুব্ধ জনগণের দাবি, চোখের সামনে জলের সমস্ত ব্যবস্থা তৈরি থাকা সত্ত্বেও শুধু মোটর, সোলার সিস্টেম এবং সামান্য কয়েক হাতের পাইপলাইনের সংযোগ না জোড়ার কারণে তাঁরা জলকষ্ট ভুগছেন। তারা অপরিশোধিত পানীয় জলখেয়ে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জলজনিত রোগে ভুগছেন,তাতে তাদের স্বাস্থ্যের অবনতি হচ্ছে কারণ এলাকার মধ্যে শিশু থেকে বয়স্ক মানুষ সবাই উপস্থিত রয়েছেন। তাই অবিলম্বে এই সামান্য কাজটুকু সম্পন্ন করে এলাকায় নিয়মিত পানীয় জল সরবরাহের ব্যবস্থা
সম্পন্ন করে দেওয়ার জন্য আবারো তারা আকুল আবেদন জানালেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ডক্টর প্রফেসর মানিক সাহার কাছে।