ফুটবল টুর্নামেন্টের দশম দিনের শেষ প্রথম রাউন্ডের ম্যাচে উত্তেজনাপূর্ণ নাটকীয় ঘটনা

Feb 12, 2026

ফুটবল টুর্নামেন্টের দশম দিনের শেষ প্রথম রাউন্ডের ম্যাচে উত্তেজনাপূর্ণ নাটকীয় ঘটনা

 নিউস ত্রিপুরা প্রতিনিধিঃ  কৈলাসহরের রামকৃষ্ণ মহাবিদ্যালয়ের মাঠে জেনারেল পদ্মজং মেমোরিয়াল আমন্ত্রণমুলক ফুটবল টুর্নামেন্টের দশম দিনের শেষ প্রথম রাউন্ডের ম্যাচে উত্তেজনাপূর্ণ নাটকীয় ঘটনা ঘটে এবং ট্রাইবেকারে কোকরাঝার এফসি জয়লাভ করে। বুধবার বিকেল ৩:১৩ মিনিটে শুরু হওয়া এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে অ্যাসামের কোকরাঝার এফসি মুখোমুখি হয় দার্জিলিং এফসির বিরুদ্ধে। দার্জিলিং দল আকাশী নীল জার্সি এবং কোকরাঝার হলুদ জার্সি পরে মাঠে নামে, যা দর্শকদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে তোলে। টস জিতে কোকরাঝার দক্ষিণ প্রান্ত থেকে খেলা শুরু করার সিদ্ধান্ত নেয়। খেলা শুরুর পর থেকে দুই দলই আক্রমণাত্মক পদ্ধতি গ্রহণ করে, তবে প্রথমার্ধে কোকরাঝারের অধিকাংশ সময় বলের দখল ছিল। দার্জিলিং মিডফিল্ডে চাপ প্রয়োগ করার চেষ্টা করে, কিন্তু কোকরাঝারের ডিফেন্স সুসংগঠিত থাকে। প্রথমার্ধের ৩৪তম মিনিটে একটি ফাউলের কারণে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে সংক্ষিপ্ত উত্তেজনা দেখা দেয়। তবে ম্যাচ রেফারি পল্লব চক্রবর্তী পরিস্থিতি দৃঢ়ভাবে এবং শান্তভাবে নিয়ন্ত্রণ করেন, দ্রুত শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনেন। প্রথমার্ধ গোলশূন্য অবস্থায় শেষ হয়। দ্বিতীয়ার্ধে দার্জিলিং এফসি নতুন উদ্যম নিয়ে মাঠে নামে। তারা কোকরাঝারের গোলপোস্টের খুব কাছে একটি ফ্রি-কিক অর্জন করে, যা দর্শকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে দেয়। শটটি শক্তিশালী হলেও পোস্টে লেগে ফিরে আসে—দার্জিলিংয়ের জন্য দুর্ভাগ্য অব্যাহত থাকে। এরপর একটি বড় মোড় আসে যখন দার্জিলিংয়ের ১৫ নম্বর খেলোয়াড় সর্দার মুন্ডাকে অস্পোর্টসম্যানলিপনার জন্য সরাসরি লাল কার্ড দেখানো হয়। এই সিদ্ধান্তে মাঠে উত্তেজনা সৃষ্টি করে এবং এক পর্যায়ে দার্জিলিং খেলোয়াড়রা ম্যাচ চালিয়ে যেতে অস্বীকার করে মাঠ ছেড়ে চলে যাওয়ার চেষ্টা করে। দার্জিলিং দলের কোচ মারিও সিটলিং চতুর্থ রেফারির কাছে তীব্র প্রতিবাদ জানান। দীর্ঘ আলোচনার পর, প্রধান রেফারি এবং চতুর্থ রেফারি দার্জিলিং দলকে খেলা চালিয়ে যাওয়ার জন্য রাজি করান। নির্ধারিত সময়ে কোনো গোল না হওয়ায় রেফারি ১০ মিনিটের অতিরিক্ত সময় ঘোষণা করেন। প্রথম অতিরিক্ত সময়েও গোল না হওয়ায় আরও ১০ মিনিট খেলা হয়। শেষ মুহূর্তে তীব্র চাপ এবং আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ সত্ত্বেও কোনো দলই গোল করতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি টাই-ব্রেকারে গড়ায়। চাপের মধ্যে ভালো মনোবল দেখিয়ে কোকরাঝার এফসি চারটি গোল করে, যেখানে দার্জিলিং এফসি তিনটি গোল করতে সক্ষম হয়। কোকরাঝারের গোলকীপার আর. ব্রহ্মার শুটআউটে অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখিয়ে ম্যান অফ দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হন। এই জয়ের সাথে কোকরাঝার এফসি টুর্নামেন্টের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে যায়। ফুটবলপ্রেমীরা এখন আগামীকাল বারো জানুয়ারি বৃহস্পতিবার মণিপুরের রায়েংদাই এফসি এবং মিজোরামের কলেজ ভেং এর মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে, যা আরও একটি উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচ হতে চলেছে।