নিউস ত্রিপুরা প্রতিনিধিঃ শ্বাসরুদ্ধকর লড়াই শেষে পদ্মজং শিল্ড ফুটবল টুর্নামেন্টের প্রথম সেমিফাইনালে জয় ছিনিয়ে নিল মণিপুরের রেংদাই এফসি। শনিবার রামকৃষ্ণ মহাবিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে ত্রিপুরা পুলিশকে টাইব্রেকারে ৩–১ ব্যবধানে পরাজিত করে ফাইনালে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করল তারা। শনিবার গ্যালারি ঠাসা দর্শকের উপস্থিতিতে হলুদ-সাদা জার্সিধারী রেংদাই এফসি এবং সাদা জার্সিধারী ত্রিপুরা পুলিশ একে অপরের মুখোমুখি হয়। খেলার শুরু থেকেই দুই পক্ষ আক্রমণাত্মক মেজাজে ফুটবল উপহার দেয়। প্রথমার্ধের দশম মিনিটে বাম প্রান্ত দিয়ে রেংদাই এফসি একটি সুযোগ তৈরি করলেও লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। পাল্টা আক্রমণে ত্রিপুরা পুলিশও ডান দিক থেকে চাপ সৃষ্টি করে, কিন্তু গোলের দেখা মেলেনি।খেলার সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক মুহূর্তটি আসে যখন মণিপুরের ১৮ নম্বর জার্সিধারী খেলোয়াড় মাঝমাঠ থেকে ডিফেন্স চিরে বক্সে ঢুকে জোরালো শট নেন, কিন্তু বল পোস্টে লেগে ফিরে আসায় নিশ্চিত গোল থেকে বঞ্চিত হয় রেংদাই এফসি। ফলে প্রথমার্ধ শেষ হয় গোলশূন্যভাবে।দ্বিতীয়ার্ধে উত্তেজনার পারদ আরও চড়ে। মণিপুরের দলটি মুহুর্মুহু আক্রমণ শানালেও ত্রিপুরা পুলিশের রক্ষণভাগ তা প্রতিহত করতে সক্ষম হয়। নির্ধারিত সময়ে কোনো দলই গোল করতে না পারায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। অতিরিক্ত সময়েও ১০-১০ কুড়ি মিনিটেও দুই দল সমানে সমানে লড়াই চালিয়ে গেলেও অচলাবস্থা কাটেনি। ততক্ষণে দিনের আলো কমে আসায় কৃত্রিম আলোয় শুরু হয় পেনাল্টি শ্যুটআউট। স্নায়ুচাপের এই লড়াইয়ে মণিপুরের রেংদাই এফসি ৩–১ ব্যবধানে জয়লাভ করে। দুর্দান্ত সেভ করে দলকে জেতাতে বড় ভূমিকা রাখায় মণিপুরের গোলরক্ষক পাটিঙ্গা ম্যাচের সেরা (Man of the Match) নির্বাচিত হন। এই ট্রফি তুলে দেন ঊনকোটি জেলাশাসক ড. তমাল মজুমদার। ম্যাচটি পরিচালনা করেন রেফারি রক্তিম সাহা। তবে রেফারির বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়ে মনিপুরের রেংদাই এফসির কোচ, ম্যানেজার তীব্র প্রতিবাদ জানায়, রেফারির সাথে বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়ে। মাঠ ছাড়ার হূমকি দেয়।