পরমাণু ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা আলোচনায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

Feb 17, 2026

পরমাণু ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা আলোচনায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

নিউস ত্রিপুরা প্রতিনিধিঃ   ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের সাথে দ্বিতীয় দফার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরমাণু আলোচনায় অংশ নিতে জেনেভায় পৌঁছেছেন। এই আলোচনার মূল লক্ষ্য হলো মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা প্রশমন এবং সম্ভাব্য নতুন কোনো সামরিক সংঘাত এড়ানো। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি সতর্ক করেছেন যে চলমান উত্তেজনা একটি বড় আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। আরাগচি সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি)  এক বার্তায় জানিয়েছেন, তিনি একটি 'ন্যায্য ও সমতাপূর্ণ' চুক্তির জন্য কিছু বাস্তবধর্মী প্রস্তাব নিয়ে এসেছেন, তবে কোনো ধরনের হুমকির মুখে নতি স্বীকার করা হবে না।মঙ্গলবার মূল আলোচনা শুরু হওয়ার আগে আরাগচি সোমবার আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রধান রাফায়েল গ্রোসির সাথে একটি গভীর কারিগরি আলোচনায় মিলিত হচ্ছেন। এই বৈঠকে ইরানের প্রধান প্রধান পরমাণু স্থাপনাগুলোতে পরিদর্শকদের প্রবেশের বিষয়ে আলোচনা হবে, যা গত জুনের যুদ্ধের সময় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তেহরান জানিয়েছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে থাকা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের কারণে তেজস্ক্রিয়তার ঝুঁকি থাকতে পারে, তাই পরিদর্শনের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট প্রোটোকল প্রয়োজন। ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর বিন হামাদ আল-বুসাইদি এই আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছেন।এই কূটনৈতিক তৎপরতার বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান বেশ কঠোর। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, আলোচনার ফলাফল ইতিবাচক না হলে পরিস্থিতি খুব 'বেদনাদায়ক' হতে পারে এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইতিমধ্যে দ্বিতীয় একটি বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন করা হয়েছে। ওয়াশিংটনের দাবি হলো ইরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে, কিন্তু তেহরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং পরমাণু অধিকারকে একটি 'রেড লাইন' বা অলঙ্ঘনীয় সীমা হিসেবে ঘোষণা করেছে যা নিয়ে কোনো আপস করা হবে না। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে এই আলোচনায় স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।জেনেভার এই আলোচনায় কেবল ইরান সংকট নয়, বরং ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানের বিষয়েও মঙ্গলবার একটি পৃথক কূটনৈতিক চ্যানেলে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। যদিও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি জানিয়েছেন, কিয়েভকে বারবার ছাড় দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে যা তারা মেনে নেবে না। তবে ইরানের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা এবং বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়নের বিষয়টিও এই আলোচনার প্রেক্ষাপটে একটি বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছে। সব মিলিয়ে এই বৈঠকটি বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।