মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে রান্নার গ্যাসের জন্য হাহাকার পরিস্থিতি ত্রিপুরাতে।

Mar 16, 2026

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে রান্নার গ্যাসের জন্য হাহাকার পরিস্থিতি ত্রিপুরাতে।

নিউস ত্রিপুরা প্রতিনিধিঃ

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে রান্নার গ্যাসের জন্য হাহাকার পরিস্থিতি ত্রিপুরাতে। ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়েও মিলছেনা গ্যাস। সম্পূর্ণ বন্ধ বাণিজ্যিক গ্যাসের যোগান। প্রভাব পড়েছে হোটেল রেস্তোরাঁর ব্যবসাতেও।

 

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দাবানল। যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব ভারতীয়দের হেঁশেলে। বিভিন্ন জায়গায় দেখা দিয়েছে রান্নার গ্যাসের সংকট। বেড়েছে দামও। গ্যাস এজেন্সি গুলোর সামনে দীর্ঘ লাইন গ্রাহকদের। তাও মিলছেনা পর্যাপ্ত গ্যাস। বিভিন্ন জায়গার পাশাপাশি ত্রিপুরাতেও চরম আকার নিয়েছে গ্যাস দুর্ভোগ। ঊনকোটি জেলার কুমারঘাটেও রান্নার গ্যাস সংকটে নাকাল হচ্ছেন গ্রাহকরা। বেড়েছে ঘরোয়া এবং বাণিজ্যিক রন্ধন গ্যাসের দাম‌ও।

এর মাঝেই গ্যাস বুকিং করার সময়সীমা নতুন করে বাড়িয়ে ৪৫ দিন করেছে গ্যাস কোম্পানি। বন্ধ রয়েছে বাণিজ্যিক গ্যাসের বিক্রি। এতে আরো অতান্তরে পড়েছেন ভোক্তারা। গ্যাস সংকটে বন্ধ হোটেল রেস্তোরার অধিকাংশ উনুন।

গ্যাস এজেন্সির সামনে দীর্ঘ লাইনে গ্যাস নিতে হুড়ুগুড়ি গ্রাহকদের। কুমারঘাটের কনক গ্যাস সামনেও একই ছবি। ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়েও প্রয়োজন মতো গ্যাস পাচ্ছেননা গ্রাহকরাএনিয়ে গ্যাস নিতে আসা লক্ষীকান্ত সিনহা নামে এক গ্রাহক জানান, নতুন নিয়মে একবার গ্যাস নেওয়ার ৪৫ দিন পূর্ণ না হওয়ায় নতুন করে বুকিং করা যাচ্ছে না গ্যাস। যাদের বুকিং হয়েছে তারাও গ্যাস পাবেন কিনা তা নিয়েও রয়েছে সংশয়। ৪৫ দিন আগে যাদের বুকিং করা ছিলো তারাই শুধুমাত্র পাচ্ছেন নতুন গ্যাসের সিলিন্ডার। তিনি বলেন, অধিকাংশ রান্নাবান্নাই এখন গ্যাস নির্ভর। তাই এই গ্যাস সংকটে সমস্যা তৈরি হচ্ছে প্রত্যেক পরিবারে। বাইট--লক্ষীকান্ত সিনহা (গ্রাহক)।

 

 

এদিকে গ্যাস নিতে আসা স্বপ্না দাস নামে এক মহিলা জানান, বেশ কয়েকদিন ধরেই বুকিং এর সমস্যায় গ্যাস নিতে পারছিলেননা তিনি। অবশেষে অফিসে ছুটে গেলে সেখান থেকে বুকিং করে তাকে দেওয়া হয় সিলিন্ডার। তাও দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে এবং নতুন দামে ষাট টাকা বেশি দিয়ে গ্যাস কিনতে হয়েছে বলে জানান ঐ মহিলা। তিনি বলেন হঠাৎ করে গ্যাসের দাম বৃদ্ধিতে সমস্যায় পড়তে হয়েছে তাদের মতো গরীব অংশের মানুষকে।বাইট---স্বপ্না দাস (গ্রাহক)।

 

এদিকে রান্নার গ্যাসের সংকটে প্রভাব পড়েছে কুমারঘাটের হোটেল রেস্তোরাগুলিতেও। গ্যাসের অভাবে গ্রাহকদের চাহিদা মতো খাবার বানাতে পারছেননা হোটেল রেস্তোরাঁ-ব্যবসায়ীরা। কুমারঘাটের দীপক পাল নামে এক হোটেল ও রেস্তোরাঁর মালিক জানান, গ্যাসের সংকটে বন্ধ দোকানের বেশিরভাগ উনুন। একদিকে দাম বেড়েছে গ্যাসের অন্যদিকে গ্যাসও পাচ্ছেন না তারা। তিনি বলেন দৈনিক চারটি উনুনে রান্না করতেন তিনি। গ্যাসের সংকটে পুরোপুরি বন্ধ রাখতে হচ্ছে দোকানের দুটো উনুন। গ্যাসের সমস্যায় দোকানে ফাষ্টফুডের ব্যবসা বন্ধ রেখেছেন তিনি। অল্প খাবার বানিয়ে চালাচ্ছেন শুধুমাত্র হোটেলের ব্যবসা। গ্যাসের এই সমস্যায় আগামী দিনে লাকড়ির উনুনের ব্যাবস্থা করার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন তারা।বাইট---দীপক পাল (রেস্তোরার মালিক)

 

এমন অবস্থায় বাড়তে পারে বিভিন্ন ফাস্ট ফুড খাবারের দাম।

এ বিষয়ে কুমারঘাটের গ্যাস এজেন্সির ম্যানেজার জয়ন্ত চক্রবর্তীকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি জানান, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এই সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। বর্তমান নতুন নিয়মে একবার গ্যাস নেওয়ার ৪৫ দিন পর নতুন করে বুকিং করার নির্দেশ জারি করা হয়েছে। বাণিজ্যিক গ্যাস এবং পেট্রোল পাম্পে বিক্রির জন্য রাখা ৫ কেজির ছোট সিলিন্ডারের যোগান সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে গ্যাস কোম্পানি থেকে। ঘরোয়া সিলিন্ডারের ক্ষেত্রেও ডিস্ট্রিবিউটরকে কমিয়ে দেওয়া হয়েছে যোগান। তিনি বলেন এই পরিস্থিতির মধ্যেই সিলিন্ডার প্রতি দাম বেড়েছে ঘরোয়া এবং বাণিজ্যিক গ্যাসের ক্ষেত্রেও। এই অবস্থায় কিছুদিন গ্যাসের সংকট চলবে বলেও এদিন স্পষ্ট করলেন গ্যাস এজেন্সির ম্যানেজার। পাশাপাশি গ্যাস বুকিং এর ক্ষেত্রে ৪৫ দিন সময়সীমা বাড়ানোয় বুকিং এর সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে গ্রাহকদেরকে। যদিও কয়েকদিনের মধ্যে এই বুকিং সমস্যা মিটবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন ম্যানেজার। বাইট---জয়ন্ত চক্রবর্তী (ম্যানেজার, গ্যাস এজেন্সি)।

 

এককথায় মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সঙ্গে ত্রিপুরার প্রতিটি জেলার গ্যাস ব্যাবহারকারীদের রান্নাঘরেও। এই

পরিস্থিতি থেকে কবে নিস্তার পাবেন মানুষ তার নেই কোন নিশ্চয়তা।