সভ্য সমাজে আবারও এক মানবিক অবক্ষয়ের চিত্র সামনে এলো। তেলিয়ামুড়া মহকুমার অন্তর্গত দশমীঘাট এলাকায় এক বৃদ্ধা মাকে অবহেলার অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দশমীঘাট এলাকার বাসিন্দা সুভন সরকার স্বামীর মৃত্যুর পর দীর্ঘদিন ধরে একাই জীবনযাপন করছেন। আশ্চর্যের বিষয়, তার চারজন সন্তান থাকা সত্ত্বেও তারা মায়ের দেখভাল তো দূরের কথা, নিয়মিত খোঁজখবর পর্যন্ত নেন না—এমনটাই অভিযোগ এলাকাবাসীর।
বর্তমানে শারীরিকভাবে অত্যন্ত অসুস্থ ও অসচ্ছল অবস্থায় দিন কাটছে ওই বৃদ্ধার। এই কঠিন সময়েও তার পাশে নেই কোনো সন্তান। এলাকাবাসীর দাবি, তার দুই ছেলে ও দুই মেয়ের মধ্যে একজন মেয়ে সোমা সরকার সমাজে প্রতিষ্ঠিত এবং বর্তমানে মহাকরণে সরকারি চাকরিতে কর্মরত। তবে তাতেও মায়ের প্রতি দায়িত্ববোধ দেখা যায়নি বলে অভিযোগ।
অভিযোগ অনুযায়ী, বৃদ্ধার বড় ছেলে বাবুল সরকার মায়ের অসুস্থতার সময় পাশে দাঁড়ালেও, তিনি নিজের সম্পত্তি বিক্রি করে বড় ছেলের কাছে যেতে চাইলে অন্যান্য সন্তানরা তাতে বাঁধা দেয়। এমনকি সম্পত্তি বিক্রির কাগজে সই করতে অস্বীকার করে নগদ অর্থ দাবি করার অভিযোগও উঠেছে বৃদ্ধার বাকি ৩ সন্তানের বিরুদ্ধে।
এই ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছে গোটা এলাকা। এলাকাবাসীর একাংশের বক্তব্য, দেশের আইন অনুযায়ী সন্তানদেরই বৃদ্ধ পিতা-মাতার দেখভালের দায়িত্ব থাকা সত্ত্বেও এমন অমানবিক আচরণ মেনে নেওয়া যায় না।
এমতাবস্থায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয়রা। পাশাপাশি, যারা এই দায়িত্ব এড়িয়ে যাচ্ছেন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। ঘটনাটি আবারও সমাজের মানবিক মূল্যবোধ ও পারিবারিক দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিল।