সরকারি নির্দেশকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে ফটিকরায়ের কৃষ্ণনগর ইটভাটায় শিশু শ্রমের চাঞ্চল্যকর ঘটনা।

Apr 23, 2026

সরকারি নির্দেশকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে ফটিকরায়ের কৃষ্ণনগর ইটভাটায় শিশু শ্রমের চাঞ্চল্যকর ঘটনা।

নিউস ত্রিপুরা প্রতিনিধিঃ

সরকারি নির্দেশকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে ফটিকরায়ের কৃষ্ণনগর ইটভাটায় শিশু শ্রমের চাঞ্চল্যকর ঘটনা। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই ঘটনায় নিরব প্রশাসন। যদিও কর্মরত শিশুরা তাদের শ্রমিক নয় বলে দায় এড়ানোর চেষ্টা ভাটা মালিকের। অন্যদিকে শিশু শ্রম আইনে কঠোর আইনি বিধান রয়েছে বলেই জানিয়েছেন কুমারঘাট মহকুমার শ্রম পরিদর্শক।

শিশুদেরকে দিয়ে কাজ করানো আইনত দণ্ডনীয়। আইন ভাঙলে এই অপরাধের শাস্তি হিসেবে অপরাধীকে পড়তে হয় জরিমানা থেকে মামলা মোকদ্দমার বেড়াজালে। কিন্তু সেই শিশুশ্রমের আইনকেই বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বিভিন্ন জায়গায় দেদার চলছে শিশুশ্রমের মতো অপরাধের ঘটনা।

বিশেষ করে বিভিন্ন প্রান্তে থাকা একাংশ ইটভাটা গুলিতে বেশিরভাগ চলছে এধরনের অবৈধ শিশু শ্রমের ঘটনা।

ত্রিপুরার ঊনকোটি জেলার ফটিকরায়ের কৃষ্ণনগর ইটভাটাটিতেও দীর্ঘদিন ধরেই চলছে শিশু শ্রমের মতো অপরাধমূলক কাজ। ছোট ছোট শিশুদেরকে দিয়েই সেখানে করানো হচ্ছে ভাটায় ইট নিতে আসা বিভিন্ন গাড়িতে ইট বোঝাই থেকে বিভিন্ন ভারী কাজকর্ম। এই অভিযোগ ছিল দীর্ঘদিনের। অবশেষে সেই অভিযোগেরই সত্যতা ধরা পড়লো সংবাদ মাধ্যমের ক্যামেরায়।

দেখাগেলো ভাটার ইট গাড়িতে তুলে দেওয়ার কাজ করানো হচ্ছে ছোট ছোট শিশুদেরকে দিয়েই। অভিযোগের কাঠগড়ায় ভাটার মালিক গৌতম সাহা। যদিও এই ঘটনাকে ধামাচাপা দেওয়ার অনেক চেষ্টা করলেন ভাটার মালিক। ঘটনাটিকে আড়াল করতে পর পর দুবার দুই অজুহাত দেখালেন তিনি।তার প্রথম দাবি, বহিঃ রাজ্যের প্রায় ৭০ থেকে ৮০ জন শ্রমিক কাজ করেন তার ভাটাতে। কাজের নিরিখে বিভিন্ন চুক্তিতেই কাজ করেন তারা। শিশুদেরকে দিয়ে কাজ করানোর প্রসঙ্গে তার প্রথম দাবি শিশুরা তার মা-বাবার সঙ্গে সাহায্য করে কাজের ক্ষেত্রে। ভাটায় শিশুদের সঙ্গে তিনি প্রায়শই ছবি তোলেন, চকলেট খাওয়ান বলে আইন ভেঙে কাজ করানো শিশুদের প্রতি অন ক্যামেরায় শিশু প্রেম দেখালেন ঐ ভাটার মালিক। প্রথমে শুনুন ভাটার মালিক গৌতম সাহার প্রথম দাবি।

 

 শুনলেনতো, তিনি স্পষ্ট‌ত‌ই বলছেন শিশুরা তাদের মা-বাবার সঙ্গে কাজ করেন ভাটায়। এবারে প্রশ্নের জালে পড়ে পরমুহূর্তেই তিনি দাবি করেন, বাইরে থেকে ইট নিতে আসা গাড়িচালকরা শিশু শ্রমিকদের নিয়ে এসে গাড়িতে ইট তোলার কাজ করান। এতে আপত্তি জানান তারা। তার স্পষ্ট দাবি শিশুদেরকে দিয়ে কোন কাজ করাননা তিনি। ব্যবসাহিক শত্রুতার জেরে গাড়িতে শিশুদেরকে দিয়ে ইট তোলানোর কাজ করানো হয়েছিলো এবং সেই গাড়িটিও তাদের ভাটার নয় বলে নিজেদের দায় এড়ানোর চেষ্টা ভাটা মালিকের। শুনুন তিনি কি বলেছেন।

 নিজেদের দোষ ঢাকতে এক‌ই মুখে দুবার দুই বক্তব্য দিলেন ভাটা মালিক। প্রথমে বললেন শিশুরা তার বাবা-মায়ের সাথে কাজ করে ভাটায় পরবর্তীতেই তার দাবী গাড়ী করে শিশুদের নিয়ে এসে কাজ করানো হয়েছে তার ব্যাবসায় ক্ষতি করার লক্ষে। ভাটা মালিকের দুবার দুই বক্তব্যই স্পষ্ট করছে কর্তৃপক্ষের দ্বারা শিশু শ্রমের ঘটনাকে।

এই প্রসঙ্গে কুমারঘাট মহকুমার শ্রম পরিদর্শক তন্ময়য় বড়ুয়া জানান, শিশুশ্রম আইনে ১৪ বছরের নিচে কোন শিশুই যুক্ত থাকতে পারবেনা কোন কাজে। ১৪ বছরের উপরে এবং ১৮ বছরের নিচে কোন শিশু করতে পারবেনা বিপদজনক বা ভারী কোন কাজ। সেক্ষেত্রে অভিযান চালিয়ে শিশু শ্রমিকদের পেলে তাদের উদ্ধার করে তুলে দেয়া হয় তাদের পরিবারের হাতে কিংবা কোন আশ্রয় স্থলে। পরবর্তীতে মালিকপক্ষকে চিহ্নিত করে করাহয় মামলা। এমনকি আদালতের নির্দেশে তাদের হয়ে থাকে আর্থিক জরিমানা পর্যন্ত।

 

 সরকারি আইন ভেঙে প্রকাশ্যে ইটভাটায় এভাবে শিশুশ্রমের ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকায় উঠছে প্রশ্ন।

এবারে গৌতম সাহার মালিকানাধীন কৃষ্ণনগরের এই ইট ভাটাটিতে চলা শিশু শ্রমের ঘটনায় প্রশাসন কি ব্যবস্থা নেয় সেটাই দেখার।

বিভাগ