ভারত চন্দ্র নগর ব্লক জুড়ে চলছে উন্নয়নের নামে হরির লুট।

Apr 24, 2026

ভারত চন্দ্র নগর ব্লক জুড়ে চলছে উন্নয়নের নামে হরির লুট।

নিউস ত্রিপুরা প্রতিনিধিঃ

উন্নয়নের নামে চলছে হরির লুট। এমনই উন্নয়নে অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেল অঙ্গনওয়াড়ী কেন্দ্রের কচিকাঁচা পড়ুয়া শিশুরা। এক মাসও হয়নি মাত্র ১৩ দিনের মাথায় নির্মীয়মান সিলিং ভেঙ্গে পড়লো মাটিতে । এই হলো উন্নয়নের নমুনা। রাজ্য সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিচ্ছে বার বার এ ধরনের মাতব্বররা  । এই ঘটনায় সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধিরা উত্তর বিলোনিয়া অঙ্গনওয়াড়ী কেন্দ্রে সংবাদ সংগ্ৰহে যাওয়ার পর, ঘটনা আড়াল করতে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন, সাংবাদিকদের হুমকি সুর  বলা হয় উন্নয়নের কাজে বাধা দিচ্ছেন আপনারা। একথা বলেন কন্ট্রাকটর  তথা পঞ্চায়েতের দুই মাতব্বর  শ্রীকান্ত সেন ও আশিষ পাটারী। একপ্রকার সাংবাদিকদের দেখে নেওয়ার হুমকি দেন ওরা । বুধবার ছিল গড়িয়া পূজার ছুটি ঘটনাচক্রে সেই দিন সেন্টারে কচিকাঁচা পড়ুয়া শিশুরা সহ কেন্দ্রের দিদিমনি অনুপস্থিত ছিলেন। যদি সেন্টার খোলা থাকতো, কচিকাঁচা পড়ুয়া শিশুরা সেন্টারে আসতো সেই সময় যদি সিলিং ভেঙ্গে পড়ে শিশুরা আহত হতো এই দায় ভার কে নিত এমনই প্রশ্ন উঠছে অভিভাবক মহল থেকে শুরু করে এলাকার শুভ বুদ্ধি সম্পন্ন  লোকজনের কাছ থেকে। ঘটনা বিলোনিয়া বিধানসভা কেন্দ্রের ভারত চন্দ্র নগর ব্লকের অন্তর্গত উত্তর বিলোনিয়া অঙ্গনওয়াড়ী কেন্দ্রে । এক মাস আগে এই কেন্দ্র মেরামতের কাজ শুরু হয় গ্ৰাম উন্নয়নের প্রকল্প থেকে। এই মেরামতের কাজের আইও ছিলেন ভারত চন্দ্র নগর ব্লকের জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার বিনয় বনিক।  ইঞ্জিনিয়ার বিনয় বনিকের কাজের সম্পর্কে ব্লক এলাকা  থেকে বেশ কিছু অভিযোগ উঠেছে। কিছুদিন আগে সুকান্ত নগর গ্ৰাম পঞ্চায়েতের কার্যালয়ে দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট  কম্পিউটার ভবন নির্মাণ করতে গিয়ে নিম্মমানের কাজের অভিযোগ উঠে আসার পর,সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধিদের শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা করেছিল ব্লকের ইঞ্জিনিয়ার তথা আইও বিনয় বনিক। প্রধান, উপপ্রধান সহ কিছু শাসক দলীয় মাতব্বরদের যোগসাজেশ করে ইঞ্জিনিয়ার  বিনয় বনিককে শিখণ্ডী সাজিয়ে এই নিম্মমানের কাজ করে চলছে উন্নয়নের নামে হরিলটের মহাযজ্ঞ । আর এরাই সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধিরা যখন ঘটনার বিষয়ে ক্যামেরা বন্দী করতে যায় তখন উন্নয়নের পাঠ দিয়ে, বিরোধীদের সাথে নাকি হাত মিলিয়ে উন্নয়নের কাজে বাধা দিচ্ছে বলে ধমক দেয় সংবাদ মাধ্যমকে । রাজ্য সরকার যেখানে কাজের গুণগত মান নিয়ে কোন ধরনের আপোষ করতে  চায় না সেখানে উন্নয়নের নামে লুটের বানিজ্য কায়েম রেখেছে গেরুয়া রামাবলী গায়ে জড়ানো মাতব্বরা। এলাকাতে গুঞ্জন রয়েছে শাসক দলের উপর থেকে নিচু তলার নেতৃত্বরা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত এ ধরনের উন্নয়ন কার্যে  । যারফলে উন্নয়নের কাজের ক্ষেত্রে সরকারের বদনাম উঠে আসছে প্রতিনিয়ত। শুভবুদ্ধি সম্পন্ন জনগণের একটাই আশা এবার ধৃতরাষ্ট্রের চোখ খুলুন নয়তোবা আগামী দিন প্রতিবাদী হয়ে উঠবে সাধারণ জনগণ ।