উত্তর ত্রিপুরার মঙ্গলখালি এলাকায় সংঘটিত খালেদ আহমেদ হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গত ২১শে মার্চ ঈদের দিন নৃশংসভাবে খুন হন খালেদ আহমেদ। এই ঘটনায় মোট ১০ জন অভিযুক্তের মধ্যে পুলিশ ইতিমধ্যেই ৬ জনকে গ্রেপ্তার করলেও বাকিরা এখনও পলাতক রয়েছে।এদিকে, মামলার প্রধান সাক্ষী তথা নিহতের ভাগ্নে দিলওয়ার হোসেনকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে অভিযুক্তদের মদতদাতা হিসেবে পরিচিত স্থানীয় বাসিন্দা নিজামুদ্দিনের বিরুদ্ধে। নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ইতিমধ্যেই থানার দ্বারস্থ হয়েছেন দিলওয়ার।অভিযোগ অনুযায়ী, খুনের ঘটনার পর থেকেই নিজামুদ্দিন অভিযুক্তদের আশ্রয় ও নিরাপত্তা দিয়ে আসছিলেন। এই বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ জানাতে গেলে দিলওয়ারকে সরাসরি হুমকি দেওয়া হয়। দিলওয়ারের দাবি, নিজামুদ্দিন তাকে হুমকি দিয়ে বলেন— খালেদ আহমেদকে হত্যার পর এবার তাকেও প্রাণে মেরে ফেলা হবে।উল্লেখযোগ্যভাবে, সম্প্রতি পুলিশের এক বিশেষ অভিযানে নিজামুদ্দিনের বাড়ি থেকেই মণি মিয়া নামে এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেই সময় ঘটনাস্থলে দিলওয়ারের উপস্থিতি লক্ষ্য করে অভিযুক্ত আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং জনসমক্ষে পুনরায় তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগ।
মামাকে হারানোর শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই এবার নিজের প্রাণ সংশয়ের মুখে পড়েছেন দিলওয়ার। তিনি প্রশাসনের কাছে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আবেদন করেছেন।ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ তথা এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলখালি এলাকায় বর্তমানে উত্তেজনা ও আতঙ্কের পরিবেশ বিরাজ করছে। এখন দেখার বিষয়, পুলিশ প্রশাসন এই হুমকির ঘটনায় কতটা দ্রুত ও কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং বাকি পলাতক অভিযুক্তদের কবে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়।