এক গৃহবধূর অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘিরে ক্রমশ রহস্য ঘনীভূত হচ্ছে । মৃত গৃহবধূর নাম কুম্পুই দেববর্মা । গত শনিবার বাড়ির লোকজনরা নিজ ঘর থেকে তার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে ।মঙ্গলবার গভীর রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জিবি হাসপাতালে মৃত্যু হয় গৃহবধুর।
মাত্র তিন বছর আগে বিশ্রামগঞ্জ থানাধীন রামদাস পাড়ার বাসিন্দা মঙ্গল দেববর্মার সাথে এলাকারই কুম্পুই দেববর্মার সামাজিক বিয়ে হয় ।তাদের পরিবারে একটি পুত্র সন্তান আসে। পেশায় অটোচালক মঙ্গল দেববর্মার পরিবার ভালোই চলছিল । শনিবার সকালে ঘুম থেকে উঠে স্ত্রী কুম্পুই দেববর্মা তার শরীর ভালো লাগছে না বলে স্বামীকে জানায়। তখন মঙ্গল দেববর্মা ঘরের যাবতীয় রান্নাবান্নার কাজ করে স্ত্রী এবং পুত্রকে খাইয়ে অটো নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায় ।শনিবার দুপুরে হঠাৎই মঙ্গল দেববর্মার দেড় বছরের পুত্র সন্তান ঘর থেকে বেরিয়ে বারান্দায় এসে চিৎকার শুরু করে ।তখন পাশের ঘরে ঘড়ে থাকা মঙ্গল দেববর্মার বড় ভাই এবং তার পরিবারের অন্যান্যরা মঙ্গল দেববর্মার রান্নাঘরে কুম্পুই দেববর্মার ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান ।সাথে সাথে চিনি ঝুলন্ত দেহটি নামিয়ে বিছানায় শুইয়ে দেন ।তখনও শ্বাস-প্রশ্বাস চলছিল তার। গৃহবধূকে অটোয় করে বিশ্রামগঞ্জ হাসপাতাল নিয়ে যাওয়া হয় ।সেখান থেকে তাকে জিবি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। মঙ্গলবার রাতে জিবি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে কুম্পুই দেববর্মা। বুধবার ময়না তদন্তের পর কুম্পুই দেববর্মার দেহটি পরিবার-পরিজনদের হাতে জিবি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তুলে দেয়।হাসপাতালের মর্গে পরিবারের লোকজনরা এই কথা জানান ।
এদিকে গৃহবধূর মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে মঙ্গলবার রাতেই বিশ্রামগঞ্জ থানার পুলিশ একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা হাতে নিয়ে ঘটনা তদন্ত শুরু করে। পরিবারটির মধ্যে কোন অশান্তি না থাকলেও হঠাৎ করে কেন স্বামী এবং দেড় বছরের পুত্র সন্তান রেখে গৃহবধূ কুম্পুই দেববর্মা এই সিদ্ধান্ত নিতে গেলেন তা নিয়ে রামদাস পাড়ার একাংশ গ্রামবাসীদের মধ্যে গুঞ্জনের সৃষ্টি হয়েছে।