উত্তর ত্রিপুরা জেলার অন্যতম ব্যস্ত শহর ধর্মনগর। আর এই শহরের উপকণ্ঠে জোর কালবার্ট এলাকার রেল গেট এখন স্থানীয় হাজার হাজার মানুষের কাছে এক মূর্তিমান আতঙ্কের নাম। ট্রেন আসার প্রায় আধা ঘণ্টা আগে গেট ফেলা এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা গেট বন্ধ থাকায় ক্ষোভে ফুঁসছেন লালছড়া, ধূপিরবন্দ, উপতাখালী, এলাকার বাসিন্দারা।
ঘটনাটি ধর্মনগর রেল স্টেশনের নিকটবর্তী জোর কালবার্ট এলাকার। স্থানীয়দের অভিযোগ, কোনো ট্রেন স্টেশনে পৌঁছানোর ৩০ থেকে ৩৫ মিনিট আগেই রেল গেটটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। নিয়ম অনুযায়ী ট্রেন স্টেশনে পৌঁছালে গেট খোলার কথা থাকলেও, বাস্তব চিত্র একেবারেই ভিন্ন। স্টেশনে একাধিক রেল লাইন থাকায় এবং বিশেষ করে তেল ও পণ্যবাহী ট্রেনের (Goods Train) মাল আনলোড করার জন্য শান্টিং বা রুট পরিবর্তনের কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা গেট বন্ধ রাখা হয়।
এই ফলে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়ছেন স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রী, অফিস যাত্রী এবং অসুস্থ রোগীরা। জরুরি ভিত্তিতে ধর্মনগর শহরে পৌঁছাতে গিয়ে মাঝপথেই থমকে যেতে হচ্ছে তাদের। বিশেষ করে মালবাহী ট্রেন চলাচলের সময় ভোগান্তি চরম পর্যায়ে পৌঁছায়। সাধারণ মানুষের দাবি, বর্তমান এই রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়নের যুগে কেন সাধারণ মানুষকে এভাবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হবে?
ভুক্তভোগী জনগণের স্পষ্ট দাবি—এখানে একটি রেল ওভারব্রিজ (Over-bridge) নির্মাণ করা এখন সময়ের দাবি। যতক্ষণ না এই ওভারব্রিজ তৈরি হচ্ছে, ততক্ষণ এই দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। স্থানীয় বাসিন্দারা এখন রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এবং প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
এখন দেখার বিষয়, স্থানীয়দের এই দীর্ঘদিনের আর্তনাদ রেল কর্তৃপক্ষের কানে পৌঁছায় কি না। নাকি প্রতিদিনের এই যন্ত্রণা সঙ্গী করেই চলতে হবে উত্তর ত্রিপুরার বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষদের।