ঘটনার ছয় ঘন্টার মধ্যেই দুঃসাহসিক এক চুড়ি কাণ্ডের দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করল পশ্চিম থানার পুলিশ ।তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় চুরি হওয়া প্রায় কুড়ি লক্ষ টাকা মূল্যের স্বর্ণালঙ্কার ।এই অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন পশ্চিম থানার ওসি রানা চ্যাটার্জি। এদিন সদর মহকুমা পুলিশ আধিকারিক ডিপি রায় এই সংবাদ জানান।
শুক্রবার রাতে রাজধানীর পশ্চিম থানার নাকের ডগায় এক দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটে ।ঘটনার ছয় ঘন্টার মধ্যেই চোরেদের গ্রেপ্তার করতে সমর্থ হয় পুলিশ। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় চুরি যাওয়া প্রায় ২০ লক্ষ টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার ।ঘটনার বিবরণ দিয়ে শনিবার সদর মহকুমা পুলিশ আধিকারিক দেবপ্রসাদ রায় জানান, রানির বাজার নিবাসী রাজু সাহা নামে এক ব্যক্তি গতকাল রাতে হঠাৎ করে খবর পান ,তার এক নিকটাত্মীয় পশ্চিম থানা সংলগ্ন একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে চিকিৎসাধীন। খবর পাওয়ার পর তিনি তড়িঘড়ি তার ঘরের যাবতীয় মূল্যবান অলংকার গুলি একটি ব্যাগে করে অটো চালিয়ে স্ত্রীকে নিয়ে আগরতলায় ছুটে আসেন। বেসরকারি নার্সিংহোমের সামনে অটো টি রেখে অটোর বক্সের মধ্যে স্বর্ণালংকার গুলি রেখে লক করে তিনি নার্সিংহোমে চলে যান ।রাত সাড়ে নটা থেকে দশটা -এই ৩০ মিনিট তিনি নার্সিংহোমের ভেতরে কাটান। এরপর নার্সিংহোম থেকে বেরিয়ে তিনি লক্ষ্য করেন তার অটোর বাক্সের লক ভাঙ্গা ,ভেতরের স্বর্ণালংকার গুলি নেই ।সাথে সাথে তিনি বিষয়টি পশ্চিম থানায় জানান। সবকিছু জেনে পশ্চিম থানার ওসি রানা চ্যাটার্জি একটি স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম বা সিট গঠন করেন ।এর নেতৃত্বে ছিলেন তিনি নিজে এবং সহযোগী ছিলেন রামনগর ফাঁড়ি এবং বটতলা ফাঁড়ির ওসি ।রাত এগারোটা নাগাদ রানা চ্যাটার্জির নেতৃত্বে পুলিশের এই বিশেষ তদন্তকারী দলটি অভিযান চালায় ।অভিযানের নেমে পুলিশ তার নিজস্ব সোর্স -এর মাধ্যমে জানতে পারে, শুক্রবার রাত ন'টা থেকে দশটা পর্যন্ত সময়ে প্যারাডাইস চৌমুহনী থেকে পশ্চিম থানা পর্যন্ত রাস্তায় রাজনগর এলাকার কিছু যুবক ঘোরাফেরা করছিল। সোর্সকে কাজে লাগিয়ে এই যুবকদের পরিচয় সংগ্রহ করে পুলিশ ।পরে প্রায় ভোররাতে পুলিশের তদন্তকারী দলটি রাজনগর এলাকার শামীম মিয়া এবং পার্থ আচার্যের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে চুরি যাওয়া স্বর্ণালংকার গুলি উদ্ধার করে ।একই সাথে শামীম মিয়া এবং পার্থকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে ।এদিন পশ্চিম থানায় বসে সদর মহকুমা পুলিশ আধিকারিক ডিপি রায় এই সংবাদ জানান ।তিনি জানান ,ধৃত অভিযুক্তদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে পুলিশের ধারণা ,তারা একটি চক্রের সাথে জড়িত ।এই গ্যাং এর সদসদের জালে তুলতে অভিযান চালানো হবে বলে জানান তিনি।
এদিন সদর এসডিপি আরো জানান ,গত দুর্গাপুজোর সময় বাড়ির সবাই মিলে পুজো দেখতে বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগে রাজু সাহার বাড়িতে চুরি সংঘটিত হয় ।সেই কথা মাথায় রেখেই রাজু সাহা তার বাড়ির স্বর্ণালংকার গুলি সাথে করে নিয়ে এসেছিলেন।