জল নিকাশির স্থায়ী ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির জলেই কার্যত জলবন্দি ত্রিপুরার ঊনকোটি জেলার কুমারঘাট মহকুমার পাবিয়াছড়া বিধানসভাধীন সোনাইমুড়ি রাখালতলি এলাকার একাধিক পরিবার। হাঁটু জল ডিঙিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে গ্রামবাসীদের। দীর্ঘ দু’বছর ধরে এই সমস্যা চললেও সমাধানে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। ক্ষোভে ফুঁসছেন এলাকাবাসী।
ত্রিপুরার ঊনকোটি জেলার কুমারঘাট মহকুমার পাবিয়াছড়া বিধানসভার অন্তর্গত সোনাইমুড়ি রাখালতলি গ্রামের এক নম্বর ওয়ার্ডের সাতটি পরিবারের সদস্যরা জমা জলের যন্ত্রনায় বর্তমানে দিন কাটাচ্ছেন চরম দুর্ভোগে। জল নিষ্কাশনের সঠিক ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই জমে যাচ্ছে জল। আর সেই জলেই ডুবে থাকছে গ্রামের যাতায়াতের একমাত্র রাস্তাটি। ফলে প্রতিদিন হাঁটু জল পেরিয়েই বাড়ি থেকে বেরোতে বাধ্য হচ্ছেন গ্রামবাসীরা।
ভুক্তভোগী বাসিন্দা নিয়তি মালাকার জানান, এলাকায় আগে জল নিষ্কাশনের জন্য ড্রেন ছিল। কিন্তু জাতীয় সড়ক নির্মাণের পর সেই ড্রেন কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। তারপর থেকেই শুরু হয়েছে এই দুর্ভোগ। বৃষ্টির জল বেরোনোর রাস্তা না থাকায় তা জমে থাকছে রাস্তার উপরেই। শুধু রাস্তা নয়, অনেকের রান্নাঘর থেকে শৌচালয় পর্যন্ত ডুবে রয়েছে নোংরা জলে। দিনের পর দিন এমন পরিস্থিতির মধ্যেই তাদের জীবনযাত্রা কাটছে বলে জানান ঐ মহিলা।
অন্যদিকে গ্রামের আরেক বাসিন্দা পূর্ণিমা মালাকার অভিযোগ করেন, টানা প্রায় পনেরো দিন ধরে জলবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন তারা। অথচ প্রশাসন কিংবা জনপ্রতিনিধিদের তরফে এখনো পর্যন্ত নেওয়া হয়নি কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ। তার দাবি, জাতীয় সড়ক নির্মাণের সময় পুরনো ড্রেন বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর নতুন করে আর কোনো জল নিকাশি ব্যবস্থা করা হয়নি। ফলে বৃষ্টির জল জমে এখন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে গোটা এলাকা।
তিনি আরও জানান, বাড়ি থেকে বেরোনো এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে তাদের পক্ষে।স্কুল পড়ুয়া ছাত্রছাত্রীদেরও বাধ্য হয়ে নোংরা জল পেরিয়েই যেতে হচ্ছে বিদ্যালয়ে। অনেকেই আবার স্কুলমুখী হতে পারছেন না এই পরিস্থিতির শিকার হয়ে।
সম্প্রতি কুমারঘাট মহকুমা এলাকায় টানা বৃষ্টির জেরেই প্রকট হয়েছে এই সমস্যা। যদিও কয়েকদিন আগেই থেমেছে বৃষ্টি, তবুও জল নিকাশির ব্যবস্থা অচল থাকায় এখনো পর্যন্ত জল জমে রয়েছে রাখালতলি এক নম্বর ওয়ার্ডে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘ দু’বছর ধরে এই সমস্যা চললেও স্থায়ী সমাধানে এগোয়নি প্রশাসন।
গ্রামের পাশ দিয়েই তৈরি হয়েছে জাতীয় সড়ক। উন্নয়নের সেই রাস্তা নির্মাণই আজ উল্টো দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে দাবি বাসিন্দাদের। ডবল ইঞ্জিন সরকারের উন্নয়নের সুফল পাওয়ার বদলে এখন জলবন্দি অবস্থায় জীবন কাটাতে হচ্ছে গ্রামবাসীদের। দুর্ভোগ পীড়িত গ্রামবাসীদের জল কষ্ট কাটাতে প্রশাসন এখন কি কার্যকরী পদক্ষেপ নেয় সেটাই দেখার।