নিউস ত্রিপুরা প্রতিনিধিঃ দেশজুড়ে একদিনের ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে অল ইণ্ডিয়া অর্গেনাইজেশন অফ কেমিষ্ট এণ্ড ড্রাগিষ্ট সংগঠন। ২৪ ঘন্টা দেশব্যাপী কেমিষ্ট ধর্মঘটে সামিল হলো অল ত্রিপুরা ক্যামিস্ট এণ্ড ড্রাগিষ্ট এসোসিয়েশনও। এই ধর্মঘটের প্রভাব পড়লো ত্রিপুরার প্রতিটি জেলা ও মহাকুমাতে। ধর্মঘটের জেরে ঊনকোটি জেলার কুমারঘাট মহকুমায় বুধবার রাত থেকে বন্ধ অধিকাংশ ঔষধের দোকান।ফটিকরায় এবং কুমারঘাট হাসপাতালের সামনে জরুরি পরিষেবার জন্য খোলা রয়েছে একটি করে ফার্মেসি। আর সেই একটি দোকানে মিলছেনা চিকিৎসকদের প্রেসক্রাইব করা সমস্ত ঔষধ। এতে এদিন সকাল থেকেই অতান্তরে পড়তে দেখাগেলো হাসপাতালে আসা রোগি ও তার আত্মীয়-পরিজনদেরকে। এদিকে হাসপাতালগুলির সামনেও দীর্ঘ লাইন রোগীদের।মূলত অনলাইনে ঔষধ বিক্রি বন্ধ করা, কর্পোরেটদের দ্বারা প্রদেয় বিশেষ ছাড় বন্ধ করা ও বাজারে ছেয়ে যাওয়া নকল ঔষধের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান চালানোর দাবিতে একদিনের এই ধর্মঘট ঔষধ ব্যবসায়ীদের।তিন দফা দাবি নিয়ে ঔষধ ব্যবসায়ীদের এই ধর্মঘটের জেরে এদিন সমস্যায় পড়তে হলো সাধারণ মানুষকে। ফটিকরায় হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা পরিতোষ মালাকার নামে এক ব্যক্তি জানান, হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে এসে ফার্মেসির জন্য সমস্যায় পড়তে হচ্ছে তাদেরকে। বাজারের বন্ধ সবকটি ফার্মেসি। একটি ফার্মেসি খোলা থাকার কারণে ঔষধ নিতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে তাদেরকে। একই অবস্থা কুমারঘাটেও। সকাল থেকেই হাসপাতালে দীর্ঘ লাইন রোগীদের। কিন্তু অধিকাংশ ঔষধের দোকান বন্ধ থাকার জেরে ডাক্তার দেখিয়ে সঠিকমতো ঔষধ নিতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। কুমারঘাট হাসপাতালে পরিষেবা নিতে আসা সুখেন্দু শব্দকর নামে এক রোগী জানান, কুমারঘাট হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে এসেছেন তিনি। চিকিৎসক ঔষধ লিখে দিলেও অধিকাংশ ফার্মেসি বন্ধ থাকায় একটি ফার্মেসিতে সব ধরনের ঔষধ না পাওয়া গেলে সমস্যায় পড়তে হবে তাদেরকে। তিনি বলেন, সমস্যা হলেও ফার্মেসি খোলা পর্যন্ত একদিন অপেক্ষা করতে হবে তাদেরকে।এদিকে বাবুল মালাকার নামে এক রোগী জানান, ফার্মেসি বন্ধ থাকার ফলে কুমারঘাট হাসপাতালের সামনে একটি ফার্মেসিতে মিলছে না সমস্ত ঔষধ। এতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে তাদেরকে। আগামীদিনে এভাবে ফার্মেসি বন্ধ থাকলে চরম সমস্যায় পড়তে হবে তাদেরকে। রোগীদের পরিষেবার কথা মাথায় রেখে কুমারঘাট হাসপাতালের সামনে খোলা রয়েছে একটি ঔষধের দোকান। দোকান মালিক পীযূষ পাল জানান, গতকাল রাত থেকেই বন্ধ রয়েছে তাদের অধিকাংশ ঔষধের দোকান। যদিও জরুরী পরিষেবার জন্য হাসপাতালের সামনে খোলা রয়েছে তার দোকানটি। শুধুমাত্র অত্যন্ত জরুরী ভিত্তিতে রোগীদেরকে দেওয়া হচ্ছে ঔষধ। ওষুধ ব্যবসায়ী নিজেও স্বীকার করেছেন মানুষের কিছুটা সমস্যা হচ্ছে কিন্তু জরুরী ভিত্তিতে মানুষকে তেমন সমস্যায় পড়তে হচ্ছেনা বলেও জানালেন তিনি। ঔষধ ব্যবসায়ীদের এই ধর্মঘটের জেরে এদিন সকাল থেকেই চরম ভোগান্তির শিকার হতে হলো সাধারণ মানুষকে।আগামীদিনে ব্যবসায়ীদের এইসমস্ত দাবি মানা না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে যেতে পারেন তারা। তখন সাধারণ মানুষের অবস্থাযে একেবারে চরম পর্যায়ে পৌঁছবে তা হলফ করেই বলা যায়।দেশকে ডিজিটাল বানানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর জেরে বেড়েছে ই-ফার্মেসির দৌরাত্ম্য। অনলাইন ফার্মেসির প্রভাবে অধিক ছাড়ের সুবিধার সাথে বাড়িতেই জীবনদায়ী ঔষধ পেয়ে যাচ্ছেন মানুষ। ফাঁকতালে বাজারেও নকল ঔষধে ছেয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয় বাজারের ঔষধ ব্যবসায়ীদের।এবারে ধর্মঘটের পর ই-ফার্মেসি নিয়ন্ত্রণ সহ ঔষধ ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন দাবিদাবা মানতে সরকার কোন পদক্ষেপ নেবে কিনা সেটাই দেখার।