বুদ্ধিসত্ত্ব দাস হত্যা মামলায় হাইকোর্টে বেকসুর খালাস দুই অভিযুক্তের

May 26, 2026

বুদ্ধিসত্ত্ব দাস হত্যা মামলায় হাইকোর্টে বেকসুর খালাস দুই অভিযুক্তের

নিউস ত্রিপুরা প্রতিনিধিঃ ২০১৯ সালের আগরতলা শহরের অন্যতম চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ড ছিল ব্যাংক কর্মকর্তা বুদ্ধিসত্ত্ব দাস হত্যা মামলা। ধর্মনগরের ইউকো ব্যাংকের ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত বুদ্ধিসত্ত্ব দাস ২০১৯ সালের ৩ ও ৪ আগস্ট মধ্যরাতে আগরতলার জ্যাকসন গেট ও উজ্জয়ন্ত প্রাসাদ সংলগ্ন এলাকায় এক বন্ধুর সঙ্গে বসেছিলেন। অভিযোগ, সেই সময় কয়েকজন ব্যক্তি রাস্তার ধারে মদ্যপ অবস্থায় অশোভন আচরণ করছিল। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ জানাতেই শুরু হয় বচসা, যা পরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে পরিণত হয়। ধারালো অস্ত্র ও ভাঙা বোতল দিয়ে আঘাত করা হয় বুদ্ধিসত্ত্ব দাসকে।গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে জিবিপি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য কলকাতায় স্থানান্তর করা হলেও কয়েকদিন পর তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় ট্রাফিক পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর সুকান্ত বিশ্বাস, স্বর্ণ ব্যবসায়ী সুমিত চৌধুরী, সুমিত বণিক এবং ওমর শরীফকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ।দীর্ঘ চার বছরের বিচার প্রক্রিয়ার শেষে ২০২৩ সালের জুন মাসে পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা ও দায়রা আদালত চার অভিযুক্তকেই দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। পাশাপাশি প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানার নির্দেশ দেওয়া হয়। মামলায় মোট ৫৬ জন সাক্ষীর বয়ান রেকর্ড করা হয়েছিল।পরবর্তীতে রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে অভিযুক্তরা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। অবশেষে বুধবার হাইকোর্ট সুমিত বণিক ও সুমিত চৌধুরীকে বেকসুর খালাস করে দেয়।এদিন হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে মামলার বিস্তারিত তুলে ধরে অভিযুক্তদের আইনজীবী সুব্রত সরকার জানান, নিম্ন আদালতের রায়ে একাধিক আইনি অসঙ্গতি ছিল। উচ্চ আদালত সমস্ত তথ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখেই এই রায় দিয়েছে। এই রায়কে ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে বহুল আলোচিত এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে। মামলার বাকি দুই অভিযুক্তের ভবিষ্যৎ আইনি অবস্থান নিয়েও নজর এখন আদালত মহলের।

বিভাগ

সর্বশেষ খবর