নিউস ত্রিপুরা প্রতিনিধিঃ দুদিনের সফরের রাজ্যে এসে শুক্রবার দুপুরে রাজধানী সংলগ্ন লঙ্কা মুড়ায় বিএসএফ চৌকি পরিদর্শনে যান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বিএসএফ চৌকি পরিদর্শনকালে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে ছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডাক্তার মানিক সাহা ,কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব, সীমা প্রবন্ধক বিভাগের সচিব ,বিএসএফের ডি জি, বিএসএফের মহা নির্দেশক সহ অন্যান্য আধিকারিকরা। এদিন লঙ্কামুড়া বিএসএফ চৌকিতে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উদযাপন উপলক্ষে আগোরগাছের চারা রোপন করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। কথা বলেন সীমান্ত নিরাপত্তায় নিয়োজিত বিএসএফ জওয়ানদের সাথে ।এই অনুষ্ঠানে বিএসএফ জওয়ানদের সামনে বক্তব্য রাখেন তিনি। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ত্রিপুরা তিন দিক দিয়ে পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রের সীমানা দ্বারা পরিবেষ্টিত ।তাই এই রাজ্যটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ।তিনি জানান, রাজ্যের ৬৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ কাঁটাতারের বেড়া ১৫ বছরের বেশি সময়ের পুরনো। এরমধ্যে ১১৯ কিলোমিটার কাঁটা তারের বেড়ার সংস্কারের কাজের জন্য ইতিমধ্যেই মঞ্জুরি দেওয়া হয়েছে ।এর প্রথম পর্যায়ের কাজ শুরু হয়ে গেছে।কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন দেশের ১৪০ কোটি দেশবাসীর সামনে প্রধান মন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী একটি সংকল্প রেখেছেন ।২০৪৭ সালের মধ্যে বিকশিত ভারত নির্মাণের সংকল্প ।কিন্তু বিকশিত ভারত নির্মাণের জন্য প্রথমেই প্রয়োজন সুরক্ষিত দেশ বানানো। তিনি বলেন যুদ্ধের জন্য এই সুরক্ষা নয় ।এই সুরক্ষা হল চোরা চালান ,মানব পাচার এবং যুব শক্তিকে নেশার করাল থাবা থেকে সুরক্ষিত রাখা ।দেশের অর্থনীতিকে কালো টাকার হাত থেকে সুরক্ষিত রাখা ।এই বিষয়গুলি বিএসএফ, সিআরপিএফ থেকে শুরু করে অন্যান্য সুরক্ষা বাহিনীর জওয়ানদের মাথায় থাকতে হবে ।কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, অনুপ্রবেশের কারণে দূষণ ছড়িয়ে পড়ছে ।এতে প্রভাবিত হচ্ছে মানব সমাজ। অনুপ্রবেশের হাত থেকে দেশকে ,দেশের সীমাকে সুরক্ষিত রাখাই জওয়ানদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব ও কর্তব্য ।তিনি আরো বলেন ,সীমান্ত সুরক্ষায় নিরাপত্তা জোয়ানদের সুবিধার জন্যই স্মার্ট ফেন্সিং এবং চতুর্ভুজ বলয়ের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে ।এর সূচনা হয়ে গেছে ।এই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই তার এদিনের লঙ্কামুড়া চৌকি সফর বলে জানান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।এদিন লঙ্কামুড়া বিএসএফ চৌকি পরিদর্শনে গিয়ে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উদযাপনের কর্মসূচিতে যোগদান করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, পরিবেশকে মানুষের বসবাসের উপযোগী রাখতে হলে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। মানব সমাজের উন্নয়নের জন্য আমরা যে পরিমাণ পরিবেশের ক্ষতি করেছি তার ক্ষতিপূরণে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।