নিউস ত্রিপুরা প্রতিনিধিঃকিছু দিনের মধ্যেই মুক্তি পেতে চলেছে যিশু সেনগুপ্ত ও শুভশ্রী গাঙ্গুলির সিনেমা ‘অভিমান’। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সিনেমা ও ব্যক্তিগত মান–অভিমান নিয়ে নানা কথা বললেন এ তারকা জুটি।আপনাদের দুজনের কাছে ‘অভিমান’ শব্দের সংজ্ঞা কী?—এমন প্রশ্নের উত্তরে যিশু বলেন, অভিমান তার সঙ্গেই হয়, যার সঙ্গে একটা ভালো লাগার এবং ভালোবাসার সম্পর্ক রয়েছে। ভালোবাসা কিংবা ভালো লাগার সম্পর্ক না থাকলে অভিমানের বদলে রাগ হয়। যে আমার সব থেকে কাছের মানুষ, তার প্রতিই অভিমান সবচেয়ে বেশি হয়।অন্যদিকে শুভশ্রী বলেন, আমার মনে হয় অভিমানের কোনো নির্দিষ্ট ডেফিনেশন হয় না। অভিমান একটা অনুভূতি। ভালোবাসা থাকলে অভিমান থাকবেই। যাকে ভরসা করা যায়, অভিমান তার প্রতিই হয়। এটা ভীষণ মিষ্টি একটা ফিলিংস।বন্ধুত্ব নাকি প্রেম— সবচেয়ে বেশি অভিমান হয় কোন সম্পর্কের ক্ষেত্রে? এ প্রসঙ্গে শুভশ্রী বলেন, আমার তো মনে হয় বন্ধুত্বেই আমাদের সবচেয়ে বেশি অভিমান হয়। প্রেমেও অভিমান থাকে। তবে সেটা একটু আলাদা ধরনের হয়। তোমার কী মনে যিশু দা?যিশু বলেন, আমিও শুভশ্রীর সঙ্গেই সহমত। অভিমান দিয়ে সম্পর্ক যাচাই করা যায়। অভিমান গাঢ় হলে বোঝা যায় সম্পর্ক আসলে ঠিক কতটা গভীর। আমার তো বন্ধুদের সঙ্গেই সবচেয়ে বেশি মান-অভিমান হয়, হয়েছে।প্রযোজক হিসেবে যিশু সেনগুপ্তকে কত নম্বর দেবেন? উত্তরে অভিনেত্রী বলেন, একেবারে ফুল মার্কস। সেটে যিশুদাকে অভিনেতা হিসেবেও পেয়েছি। বরং সৌরভ (দাস) প্রযোজনার দায়িত্ব বেশি সামলেছে।দুজনেরই ইন্ডাস্ট্রিতে অনেক বছর হয়ে গেল। পেছনে কি ফেলে এলেন? অভিনেতা বলেন, সময়ের সঙ্গে অনেক কিছুই তো পেছনে ফেলে এগোতে হয়। তবে সত্যি বলতে— শুধু ইন্ডাস্ট্রি নয়, গোটা ইউনিভার্স থেকে আমি যা কিছু পেয়েছি তার জন্য আমি ধন্য। ছয় মাস কারেন্ট ছিল না, প্রতিবেশীরা খাবার না দিলে খাওয়া জুটত না— এই জায়গা থেকে উঠে এসেছি আমি। এখন যা ইচ্ছা খেতে পারি। তিন-চারটা গাড়ি আছে, বাড়ি হয়েছে। এরপর আর কিছু চাওয়ার থাকতে পারে না। যা পেয়েছি, কাল মরে গেলেও কোনো আক্ষেপ থাকবে না বলে জানিয়েছেন যিশু সেনগুপ্ত। অন্যদিকে শুভশ্রী বলেন, ইন্ডাস্ট্রি থেকে আমার প্রাপ্তির ঝুলিটাই সবচেয়ে ভারি। বদলে কতটা দিতে পেরেছি জানি না। আমার আসলে জীবনের কোনো কিছু নিয়েই বিশেষ অভিযোগ নেই। কোনো আপসোসও নেই। ভগবান সারাজীবনে আমাকে অনেক কিছু দিয়েছেন। যেগুলো ঠিক আমাদের মনের মতো হয় না, সেটাই আমাদের চোখে খারাপ। আমি বিশ্বাস করি সেই খারাপটাও হয় আমাদের ভালোর জন্যই বলে জানিয়েছেন অভিনেত্রী।যিশু, আপনি তো চাইলে ক্রিকেটারও হতে পারতেন। মাঝে মধ্যে কি সে জন্য আক্ষেপ হয় না? এমন প্রশ্নের উত্তরে যিশু বলেন, সেটা নিয়ে খারাপ লাগা আছে। তবে আমি এমন একটা প্রফেশনে আছি, চাইলে পর্দায় ক্রিকেটার ও ফুটবলার হতেই পারি। সেটা বাদ দিয়েও ভগবান তো আমাকে সিসিএল খেলার সুযোগ করে দিয়েছেন। আবার ক্যাপ্টেনও হলাম। যে-যে মাঠগুলোতে আমরা খেলি, সবই তো ইন্টারন্যাশনাল গ্রাউন্ড। আমি লাকি যে চিন্নাস্বামীতে গিয়ে খেলতে পেরেছি।শুভশ্রী বললেন, যিশুদা যদি প্রফেশনালি ক্রিকেট খেলত, তাহলে তো অভিনেতা যিশু সেনগুপ্তকে পেতাম না। যিশুদা একসঙ্গে দুটোই করতে পারছে— এটা বেশ ভালো হয়েছে।শুভশ্রী বলেন, আসলে শিল্পীরা পানির মতো খুব সহজ-সরল হয়। অভিমান মনের মধ্যে জমিয়ে না রেখে বলে দেওয়াই উচিত।কাজ করতে গিয়ে একে অন্যের সম্পর্কে কোনো ভুল ধারণা ভেঙে গেল? শুভশ্রী বলেন, এটাও আমার প্রাপ্তি। যিশুদা সত্যিই কোনো সিনেমা দেখে না। যিশুদা তো বলছেই এবার অন্য ভাষার ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করা উচিত। যিশু বলেন, শুভশ্রী যে এত ভালো অভিনয় করে, সেটা আমি সত্যিই জানতাম না। আমি অ্যাকশন, থ্রিলারের মতো মাইন্ডলেস সিনেমা ছাড়া খুব একটা দেখি না। ফলে জানতাম না যে শুভশ্রী এত ভালো কাজ করছে।