নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধিতে দিশেহারা সাধারণ মানুষ

Jun 28, 2026

নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধিতে দিশেহারা সাধারণ মানুষ

নিউস ত্রিপুরা প্রতিনিধিঃ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধিতে দিশেহারা সাধারণ মানুষ। শাকসবজি থেকে শুরু করে মাছ, ডাল, তেল, প্রায় সব ধরনের পণ্যের দাম এখন আকাশছোঁয়া। ঊনকোটি জেলার কুমারঘাটের পাবিয়াছড়া বাজারেও শাকসবজি থেকে অন্যান্য দোকানে পড়েছে মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব। কমেছে বিক্রি।বাজার নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। ত্রিপুরা জুড়ে বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর মূল্য আকাশ ছোঁয়া। ঊনকোটি জেলার কুমারঘাটের পাবিয়াছড়া বাজারেও পড়েছে এই মূল্য বৃদ্ধির ছাপ। জিনিসপত্রের আকাশ ছোঁয়া দাম বৃদ্ধিতে বিপাকে সাধারন মানুষ। দাম নিয়ন্ত্রণে নেই প্রশাসনের কোন পদক্ষেপ। ফলে ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।হঠাৎ করেই বাজারে অগ্নিমূল্য হয়ে উঠেছে শাকসবজি, তেল-মসলা থেকে কসমেটিক্স, কাপড়,বাসনপত্র সহ সব ধরনের জিনিসপত্রের দাম। দৈনন্দিন কেনাকাটা করতে প্রতিদিন‌ই বাজারে ভিড় জমাচ্ছেন মানুষ। কিন্তু বাজারে ঢুকেই রিতিমতো বাড়তি দামে হাত পুড়ছে ক্রেতা সাধারনের। একের পর এক নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে সংসারের বাজেট সামলানো এখন সাধারণ মানুষের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের সাথে ঊনকোটি জেলার কুমারঘাটের পাবিয়াছড়া বাজারেও ধরা পড়েছে সেই ছবি। খাদ্য সামগ্রী থেকে কসমেটিক্স সহ প্রায় প্রতিটি পণ্যের দাম এখন মহার্ঘ। আগের তুলনায় দাম অনেকটাই বেড়ে যাওয়ার ফলে প্রয়োজনের তুলনায় কম পরিমাণে বাজার করেই বাড়ি ফিরতে বাধ্য হচ্ছেন বহু ক্রেতা।য় এতে কমে গেছে দোকানিদের বিক্রিও। ব্যবসায়ীদের দাবি, পাইকারি বাজার থেকেই অধিক দামে পণ্য কিনতে হচ্ছে তাদেরকে। পরিবহন ব্যয় এবং সরবরাহ ব্যবস্থার বিভিন্ন সমস্যার কারণে খুচরা বাজারেও বেড়েছে দাম। এতে একদিকে যেমন বিক্রি কমেছে, অন্যদিকে ব্যবসায়ও দেখা দিয়েছে চরম মন্দা। এপ্রসঙ্গে পাবিয়াছড়া বাজারের এক ব্যবসায়ী স্বপন রায় বলেন, বর্তমানে অনেকটাই মন্দা চলছে ব্যবসায়। তিনি বলেন দিনমজুরদের কেনাকাটার উপর‌ই নির্ভর তাদের ব্যবসা। আর সেই দিনমজুরদের হাতে টাকা না থাকার কারণে মন্দা দেখা দিয়েছে বাজারে। পাশাপাশি ইদানিং বাজারে বেড়েছে জিনিসপত্রের দামও। হঠাৎ করে জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধিতে ক্রেতারাও সমস্যায় পড়েছেন বলে জানালেন ব্যবসায়ী। তার দাবি, বিগত ৩০ থেকে ৩৫ বছর ধরে এই ব্যবসা করে আসছেন তিনি কিন্তু বাজারে জিনিসপত্রের এমন আকাশ ছোঁয়া দাম আগে কখনো ছিলোনা বলে মন্তব্য করেন ঐ ব্যবসায়ী।  দাম বৃদ্ধির প্রসঙ্গে পাবিয়াছড়া বাজারের আরেক কাঁচামাল ব্যবসায়ী নির্মল কুমার দে বলেন, বিগত দুই থেকে তিন বছর ধরে মন্দা দেখা দিয়েছে ব্যবসায়। মূলত রাজ্যে কাজের অভাবে শ্রমিক শ্রেণীর হাতে টাকা না থাকার ফলে বাজারে জিনিসপত্রের অত্যধিক দামের কারণে বেশি করে জিনিস কিনছেননা শ্রমিক অংশের মানুষ। কয়েক বছর আগেও বাজারে এসে কেজি কেজি আলু পেঁয়াজ কিনতেন শ্রমিক অংশের মানুষ। কিন্তু এখন কমে গিয়েছে সেটাও। মূলত দিনমজুরের হাতে কাজ না থাকার ফলে এবং পেট্রোল-ডিজেলের দাম ক্রমাগত বাড়ার ফলে বাজারে জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বিক্রিও কমেছে বলে জানালেন তিনি। ব্যবসায়ী বলেন, শ্রমিক অংশের মানুষ বাইরের খোলাবাজার থেকে আলু পেঁয়াজ কিনে থাকেন। আর তাদের হাতে টাকা না থাকার ফলে ব্যবসায় মন্দা দেখা দিয়েছে বাজারেও।   বর্তমানে পাইকারি বাজার থেকেই বেশি দামে সামগ্রী কিনতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদেরকে। তাই বাধ্য হয়েই বেশি দামে বিক্রি করছেন তারা।বাজারের গৌতম দাস নামে এক কসমেটিকস ব্যবসায়ী বলেন, বাজারে জিনিসপত্রের দাম বেড়ে গিয়েছে অনেকটাই তাই চাহিদা কমে গিয়েছে ক্রেতাদের। স্বাভাবিকভাবেই কমেছে বিক্রিও। তিনি বলেন বাজারে জিনিসপত্রের দাম বাড়ার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাড়ছেনা সাধারণ মানুষের রোজগার। ফলে আগের মতো কেনাকাটা করতে পারছেননা মানুষ। জিনিসপত্রের দাম কমলে বাজারে বিক্রিও বাড়বে বলে জানালেন ঐ ব্যবসায়ী।  মূল্যবৃদ্ধির এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীরাও পড়েছেন অনিশ্চয়তার মুখে। এই অবস্থায় বাজারে মূল্য বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কোন হস্তক্ষেপ নেই বলে অভিযোগ। বর্তমান পরিস্থিতিতে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপের দাবি তুলেছেন সাধারণ মানুষ।