নিউস ত্রিপুরা প্রতিনিধিঃএকসময় বিশ্ব ফুটবলে স্ট্রাইকার মানেই ছিল রোনালদো নাজারিওর আধিপত্য। দুরন্ত গতি, দুর্দান্ত ড্রিবলিং, প্রতিপক্ষকে কাটিয়ে অনায়াসে গোল করার অসাধারণ দক্ষতায় তিনি হয়ে উঠেছিলেন ‘দ্য ফেনোমেনন’। ব্রাজিলের এ কিংবদন্তির মতে, আধুনিক ফুটবলে সেই একই বৈশিষ্ট্যের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে ফ্রান্সের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পের খেলায়।চলমান বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন এমবাপ্পে। গ্রুপ পর্বের প্রথম তিন ম্যাচে চার গোল ও দুটি অ্যাসিস্ট করে তিনি ফ্রান্সকে শেষ বত্রিশে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তার ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে মুগ্ধ হয়ে রোনালদো বলেন, এমবাপ্পের খেলার ধরন তাকে নিজের সেরা সময়ের কথাই মনে করিয়ে দেয়।ফরাসি সংবাদমাধ্যম লে’কিপ-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ২০০২ বিশ্বকাপজয়ী এ কিংবদন্তি বলেন, ‘এমবাপ্পের মধ্যে আমি নিজের খেলার অনেক বৈশিষ্ট্য খুঁজে পাই। সে বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার এবং ভবিষ্যতে কিংবদন্তি হওয়ার সব যোগ্যতাই তার রয়েছে।এমবাপ্পের পাশাপাশি আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসিরও প্রশংসা করেছেন রোনালদো। তার মতে, শুধু পরিসংখ্যান দিয়ে মেসি বা এমবাপ্পের প্রভাব বিচার করা সম্ভব নয়। কারণ দুজনই এমন খেলোয়াড়, যারা মুহূর্তের মধ্যে একটি ম্যাচের চিত্র বদলে দিতে পারেন।বিশ্বকাপে এমবাপ্পের দুর্দান্ত ফর্মের ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে তার ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদের পরিসংখ্যানেও। এবার বিশ্বকাপে রিয়ালের ফুটবলাররা এখন পর্যন্ত মোট ১১ গোল করেছেন। এর মধ্যে এমবাপ্পের চার গোলের পাশাপাশি ভিনিসিয়ুস জুনিয়রও করেছেন চারটি। জুড বেলিংহাম ও আরদা গুলের যোগ করেছেন আরও তিন গোল। ফলে ১৯৯৮ বিশ্বকাপে রিয়াল মাদ্রিদের খেলোয়াড়দের করা ১২ গোলের ক্লাব রেকর্ড ভাঙার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে স্প্যানিশ ক্লাবটি।বিশ্বকাপ যত এগোচ্ছে, এমবাপ্পে ততই প্রমাণ করছেন কেন তাকে মেসি-রোনালদো যুগের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আর সেই স্বীকৃতি যখন আসে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার রোনালদো নাজারিওর কাছ থেকে, তখন তা নিঃসন্দেহে আরও বেশি গুরুত্ব বহন করে।