নিউস ত্রিপুরা প্রতিনিধিঃপশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার নবনির্বাচিত সদস্যদের জন্য শুক্রবার থেকে শুরু হয়েছে দু'দিনের ওরিয়েন্টেশন কর্মসূচি। এদিন এর উদ্বোধন করলেন লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লা। গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যকে শক্তিশালী করতে, সংসদীয় মর্যাদা রক্ষা করতে এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য তিনি নবনির্বাচিত বিধায়কদের নিবেদিতপ্রাণ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান। ওম বিড়লা বলেন, পশ্চিমবঙ্গের মহান ব্যক্তিরা আধ্যাত্মিকতা, ধর্ম ও সংস্কৃতির পাশাপাশি সমাজ সংস্কার এবং দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন। তিনি বলেন, 'বন্দে মাতরম' ধ্বনির মাধ্যমে ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনকে নতুন দিশা ও নতুন শক্তি জুগিয়েছিল বাংলা।লোকসভার অধ্যক্ষ বলেন, প্রত্যেক বিধায়ক কেবল নিজের বিধানসভা কেন্দ্রেরই নন, বরং সমগ্র রাজ্যের যৌথ আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশার প্রতিনিধি। তাই সমস্ত জনপ্রতিনিধিদের সম্পূর্ণ নিষ্ঠা ও সংবেদনশীলতার সঙ্গে নিজেদের দায়িত্ব পালন করা উচিত। নতুন বিধায়কদের শেখার ও বিষয় অনুধাবন করার আগ্রহ ও উদ্ভাবনী মনোভাব থাকা উচিত বলেও জানান তিনি। তিনি বিধানসভার নবনির্বাচিত সদস্যদের পরামর্শ দেন, তাঁরা যেন প্রবীণ ও অভিজ্ঞ বিধায়কদের অভিজ্ঞতা থেকে শেখেন, বিধানসভার পুরনো কার্যবিবরণী অধ্যয়ন করেন এবং সংসদীয় ঐতিহ্য ও প্রক্রিয়াগুলিকে গভীরভাবে অনুধাবন করেন। ওম বিড়লা বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির এই যুগে জনপ্রতিনিধিদের প্রতিনিয়ত নিজেদের আপডেট রাখতে হবে। তিনি বিধায়কদের দীর্ঘ সময় বিধানসভার কার্যক্রমে উপস্থিত থাকার ও অন্যান্য বিধায়কদের মতামত ও বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনার অনুরোধ জানান।তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য, আধ্যাত্মিক চেতনা এবং সাংস্কৃতিক নবজাগরণের গৌরবময় ঐতিহ্যকে পুনরায় সমৃদ্ধ করার জন্য সমস্ত জনপ্রতিনিধিকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। সেই সঙ্গে গণতান্ত্রিক ক্ষেত্রকে শক্তিশালী করে বিকশিত ভারত গঠনে সক্রিয় অবদান রাখতে হবে। বলেন, বাংলার সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করা এবং ইতিবাচক পরিবর্তন আনা প্রত্যেক বিধায়কের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত। তিনি বলেন, ২০৪৭ সালের মধ্যে বিকশিত ভারত গঠনের স্বপ্ন তখনই বাস্তবায়িত হবে, যখন বিকশিত বাংলা গঠনের লক্ষ্যে কার্যকরী প্রচেষ্টা চালানো হবে। তিনি এও বলেন, গণতন্ত্রে সহমত ও ভিন্নমত- উভয়ই স্বাভাবিক, তবে সমস্ত পরিস্থিতিতেই গণতন্ত্রের মর্যাদা, সংসদীয় ঐতিহ্য এবং সুস্থ মতবিনিময়ের সংস্কৃতি অক্ষুণ্ণ থাকা উচিত।এই অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু, রাজ্যসভার ডেপুটি চেয়ারম্যান হরিবংশ, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত ব্যানার্জি, বিধানসভার অধ্যক্ষ রথীন্দ্র বোস-সহ অন্যান্য জনপ্রতিনিধি ও অন্যান্য বিশিষ্ট অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।