নিউস ত্রিপুরা প্রতিনিধিঃতেলিয়ামুড়া মহকুমার শহরাঞ্চল থেকে অল্প দূরেই ২৯-কৃষ্ণপুর বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত কৃষ্ণপুর ও সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের কাছে এখন রাত মানেই আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তা। প্রায় প্রত্যেকটা দিন দিনের আলো ফুরোতেই শুরু হয় বন্য দাতাল হাতির তাণ্ডবের আশঙ্কা। ফলে বছরের পর বছর ধরে রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে ওই এলাকায় বসবাসকারী প্রায় ৭০ পরিবারের। নিজের ঘরেই নিরাপদ নন মানুষ—যে কোনো মুহূর্তে হানা দিতে পারে মৃত্যুদূত হয়ে ওঠা সেই বন্য দাতাল হাতি।স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘ বছর ধরে এই সমস্যার স্থায়ী কোনো সমাধান মেলেনি এখনো পর্যন্ত। বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ নিয়ে থাকলেও, সেগুলো সাময়িক হয় কিন্তু বাস্তবে পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। ফলে প্রতিদিনই প্রাণ হাতে নিয়ে বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।এই বন্য হাতির তাণ্ডবে ইতিমধ্যেই বহু বসতবাড়ি ভেঙে চুরমার হয়েছে, নষ্ট হয়েছে বিস্তীর্ণ কৃষিজমি, এমনকি একাধিক নিরীহ মানুষ প্রাণও হারিয়েছেন। তবুও সমস্যার স্থায়ী সমাধানে বনদপ্তরের কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় ক্ষোভে ফুঁসছেন এলাকাবাসী।কৃষ্ণপুর ও আশপাশের অধিকাংশ পরিবারই কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু মাঠে ফসল ফলানোর আগেই বন্য হাতির দল হানা দিয়ে মুহূর্তের মধ্যে গুঁড়িয়ে দিচ্ছে একাংশের মাসের পর মাসের পরিশ্রম। ফলে আর্থিকভাবে সর্বস্বান্ত হয়ে পড়ছেন অনেক কৃষকরা। অনেকেই বাধ্য হয়ে চাষাবাদই ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবছেন।এলাকাবাসীর প্রশ্ন—আর কতদিন এভাবে আতঙ্কে দিন কাটাতে হবে ? আর কত প্রাণ গেলে নড়েচড়ে বসবে বনদপ্তর? মানুষের জীবন ও জীবিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি তুলেছেন ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা। এখন দেখার, প্রশাসন ও বনদপ্তর কবে এই দীর্ঘদিনের যন্ত্রণার অবসান ঘটাতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে কিনা।