বিবর্তনঃ-
বিগত প্রায় ৭২ ঘণ্টার অবিরাম বর্ষণে তেলিয়ামুড়া মহকুমার অন্যতম কৃষি প্রধান এলাকা বাইশঘড়িয়া গ্রাম কার্যত বন্যার কবলে পড়েছে। মাঠের পর মাঠ এখন জলমগ্ন। কৃষকের বছরের পরিশ্রম, ঘাম আর স্বপ্ন এক নিমেষে ভেসে গেছে বন্যার জলে। প্রকৃতির এই নির্মম আঘাতে সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছেন এলাকার শতাধিক সব্জি চাষি।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, কৃষি জমিতে হঠাৎ করে বন্যার জল ঢুকে পড়ায় কারকল, ঝিঙে, মরিচ, শশা-সহ বিভিন্ন ধরনের সব্জি চাষ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। যে জমি গুলো কয়েকদিন আগেও সবুজে ভরপুর ছিল, আজ সেখানে শুধু থইথই জল। অনেক কৃষক ঋণ নিয়ে চাষ করেছিলেন। এখন সেই ঋণ শোধ করা তো দূরের কথা, সংসার চালানোই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কৃষকদের দাবি, প্রতি বছর বর্ষা এলেই একই দুর্দশার মুখোমুখি হতে হয়। অথচ স্থায়ী জলনিকাশি ব্যাবস্থা গড়ে তোলা বা বন্যা মোকাবিলায় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রশাসনের তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বছরের পর বছর ক্ষতির শিকার হলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান আজও অধরাই থেকে গেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের একটাই আবেদন—অবিলম্বে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক মূল্যায়ন করে সরকারি ক্ষতিপূরণ, কৃষিঋণে বিশেষ ছাড় এবং পুনরায় চাষের জন্য বীজ ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হোক। অন্যথায় বহু কৃষক কৃষিকাজ ছেড়ে দিতে বাধ্য হবেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
প্রকৃতির এই তাণ্ডব শুধু ফসলই ভাসিয়ে নিয়ে যায়নি, ভাসিয়ে নিয়ে গেছে অসংখ্য কৃষক পরিবারের ভবিষ্যতের স্বপ্নও। এখন দেখার বিষয়, প্রশাসন কেবল ক্ষয়ক্ষতির হিসাবেই সীমাবদ্ধ থাকে, নাকি সত্যিই বিপর্যস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর পথ তৈরি করে।