বিবর্তনঃ-
দীর্ঘদিনের বেতন বৈষম্য, অনিশ্চিত কর্মজীবন এবং সরকারি স্বীকৃতির দাবিতে শুক্রবার কালো দিবস পালন করল ত্রিপুরার তিনটি প্রকল্প কর্মী সংগঠন। শ্রম দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে তারা সরকারকে অবিলম্বে দাবি পূরণের আহ্বান জানায়। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবা প্রদান করেও তারা এখনও ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত।
শুক্রবার 'কালো দিবস' কর্মসূচির অংশ হিসেবে শ্রম দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন ত্রিপুরা মিড-ডে-মিল ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন, ত্রিপুরা আশা ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন এবং ত্রিপুরা অঙ্গনওয়াড়ী ওয়ার্কার্স অ্যান্ড হেলপার্স ইউনিয়নের শতাধিক সদস্য। কালো ব্যাজ ধারণ করে এবং বিভিন্ন দাবি সম্বলিত প্ল্যাকার্ড হাতে আন্দোলনকারীরা শ্রম দপ্তরের সামনে জড়ো হন। পরে তারা বিক্ষোভ কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং প্রকল্প কর্মীদের দীর্ঘদিনের সমস্যা তুলে ধরেন। আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবি ছিল— প্রকল্প কর্মীদের সরকারি কর্মচারীর স্বীকৃতি প্রদান, ন্যূনতম মজুরির পরিবর্তে সম্মানজনক বেতন কাঠামো চালু, নতুন শ্রম কোড প্রত্যাহার, সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা, পেনশন, ইএসআই, পিএফ-সহ অন্যান্য শ্রমিক কল্যাণমূলক সুবিধা প্রদান এবং দীর্ঘদিনের বকেয়া ভাতা ও অন্যান্য পাওনা দ্রুত মিটিয়ে দেওয়া।সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, আশা কর্মী, অঙ্গনওয়াড়ী কর্মী-সহ মিড-ডে-মিল কর্মীরা স্বাস্থ্য, পুষ্টি, শিক্ষা এবং শিশু ও মাতৃকল্যাণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও তাদের এখনও স্বল্প ভাতা নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। মূল্যবৃদ্ধির এই সময়ে বর্তমান পারিশ্রমিকে পরিবার চালানো অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে বলেও তারা দাবি করেন। বক্তারা আরও বলেন, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের একাধিক জনকল্যাণমূলক প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়নের মূল দায়িত্ব এই প্রকল্প কর্মীদের ওপর থাকলেও তাদের কর্মসংস্থানের কোনও স্থায়িত্ব নেই। ফলে ভবিষ্যৎ নিয়ে তারা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে সরকারকে দ্রুত আলোচনায় বসে প্রকল্প কর্মীদের ন্যায্য দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। অন্যথায় আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটার হুঁশিয়ারিও দেন সংগঠনের নেতারা। বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে কিছু সময়ের জন্য শ্রম দপ্তর চত্বরে উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশের সৃষ্টি হলেও পুলিশের উপস্থিতিতে পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ ছিল। এখন প্রকল্প কর্মীদের দাবির বিষয়ে সরকার কী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, সেদিকেই নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহল এবং হাজার হাজার প্রকল্প কর্মীর।