নিউস ত্রিপুরা প্রতিনিধিঃউত্তর ত্রিপুরার ধর্মনগর শহরে রাস্তা মেরামতের কাজকে ঘিরে উঠেছে একাধিক অনিয়মের অভিযোগ। সরকারি অর্থে পরিচালিত এই কাজে নির্ধারিত মান ও নিয়ম অনুসরণ করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ তুলেছেন এলাকার বাসিন্দাদের একাংশ। তাঁদের দাবি, রাস্তা সংস্কারের নামে নিম্নমানের কাজ করে সরকারি অর্থের অপচয় করা হচ্ছে। অভিযোগ অনুযায়ী, শহরের বিভিন্ন এলাকায় চলমান রাস্তা মেরামতের সময় নিয়ম অনুসারে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ খনন করে সেখানে নতুন পাথর, ও অন্যান্য মানসম্পন্ন নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের কথা থাকলেও বাস্তবে তা করা হচ্ছে না। স্থানীয়দের দাবি, রাস্তার পুরনো পিচ ও পাথর কুরে তুলে সেই উপকরণ দিয়েই পুনরায় গর্ত ভরাট করা হচ্ছে। ফলে রাস্তার স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং নতুন সামগ্রী ব্যবহারের জন্য বরাদ্দ অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন অনেকে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এই ধরনের কাজের ফলে সাময়িকভাবে রাস্তার গর্ত ঢেকে গেলেও অল্প সময়ের মধ্যেই একই সমস্যা আবার দেখা দিচ্ছে। তাঁদের বক্তব্য, জনগণের করের টাকায় পরিচালিত উন্নয়নমূলক কাজে যদি গুণগত মান বজায় না থাকে, তাহলে সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠবে। এই অভিযোগের পাশাপাশি পূর্ত (PWD) দপ্তরের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসীর একাংশ। তাঁদের দাবি, কাজ চলাকালীন দপ্তরের তদারকি যথাযথভাবে হচ্ছে না। ফলে ঠিকাদার সংস্থাগুলি নিয়ম মেনে কাজ করছে কি না, সে বিষয়েও নজরদারির অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ। যদিও এই সমস্ত অভিযোগের বিষয়ে পূর্ত দপ্তর বা সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার সংস্থার পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্ব সহকারে প্রকাশ করা হবে। এদিকে, বিষয়টি নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করে রাস্তা মেরামতের কাজের গুণগত মান যাচাই এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন সিপিআই এম ধর্মনগর উত্তর ত্রিপুরা জেলা সম্পাদক অভিজিৎ দে, মহকুমা সম্পাদক রতন রায়, প্রাক্তন মন্ত্রী বিজিতা নাথ, বিধায়ক শৈলেন্দ্র চন্দ্র নাথ ও ধর্মনগর মহকুমা কমিটির সদস্য জহরুল হক।