নিউস ত্রিপুরা প্রতিনিধিঃ ধলাই জেলার ছৈলেংটায় বন দপ্তরের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হলো মহকুমা ভিত্তিক বনমোহৎসব। ছৈলেংটা টাউন হলে গাছের গোড়ায় জল দিয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন এলাকার বিধায়ক। পাশাপাশি এদিন অনুষ্ঠান স্থলে চারাগাছ রোপন ও অঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় পুরস্কার ও শংসাপত্র। পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী রাজ্য বনদপ্তরের মনু বন বিভাগের উদ্যোগে ও ছৈলেংটা রেঞ্জ অফিসের সহযোগীতায় অনুষ্ঠিত হলো বনমহোৎসব ২০২৬। পিএমশ্রী ছৈলেংটা দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের উপস্থিতিতে ছৈলেংটা টাউন হলে আয়োজিত এই উৎসবের সূচনা করেন ছাওমনু বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক শম্ভূলাল চাকমা। উপস্থিত ছিলেন মনু-ছৈলেংটা কেন্দ্রের এমডিসি হলিউড চাকমা, ছাওমনু কেন্দ্রের এমডিসি স্মেলজয় ত্রিপুরা, ধলাই জেলার বন আধিকারিক সংগীতা আবা খাটাল, মনু বনবিভাগের মহকুমা বন অধিকারিক অনুরাগ চক্রবর্তী সহ অন্যান্য অতিথিরা। অনুষ্ঠানে আলোচনা রাখতে গিয়ে বৃক্ষ রোপনের উপর গুরুত্ব আরোপ করেন বিধায়ক। শম্ভুলাল চাকমা বলেন, বিভিন্ন সমাজিক উন্নয়নমূলক কাজকর্ম থেকে ব্যক্তিগত কাজের জন্য আজ বন ধ্বংস করছে মানুষ। বনভূমি ধ্বংস করার কারণে পরিবেশের যে ক্ষতি হচ্ছে তা পূরণ করার জন্য গাছ লাগাতে সামাজিকভাবে উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন গাছ না লাগানোর প্রভাব দেখা দিচ্ছে পরিবেশের উপর। গাছ না লাগানোর ফলে বিশ্ব উষ্ণায়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মত ঘটনা ঘটছে পৃথিবীতে। এদিন সমস্ত ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে নিজ নিজ বাড়িতে একটি করে গাছ লাগানোর আবেদন জানান বিধায়ক। অনুষ্ঠানে আলোচনা রাখতে গিয়ে ধলাই জেলা বন আধিকারিক সংগীতা আবা খাটাল বলেন, পৃথিবীতে অধিক মাত্রায় গাছ কাটার ফলে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে যেমন বিশ্বজুড়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে তাপমাত্রা তেমনি সংকট দেখা দিচ্ছে ভূগর্ভস্থ জলের। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের এই সমস্যার সমাধান করতে হলে বৃক্ষরোপণ করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি বলেন উন্নয়নের কাজ করতে গিয়ে কটে ফেলা হচ্ছে গাছ। উন্নয়নের সাথে সাথে বনকেও বাঁচানো জরুরী বলে মন্তব্য করেন তিনি। বন সংরক্ষণ ও উন্নয়ন দুটোই একসাথে চলা অত্যন্ত জরুরী বলে দাবি করেন জেলা বন আধিকারিক। তিনি বলেন ভারত সরকারের "এক পেড় মাকে নাম" এই প্রকল্পে গোটা ত্রিপুরায় ৩০ লক্ষ গাছ লাগানোর লক্ষমাত্রা নেওয়া হয়েছে চলতি বছর। এরমধ্যে ধলাই জেলায় লাগাতে হবে সাড়ে তিন লক্ষ গাছ।