নিউস ত্রিপুরা প্রতিনিধিঃ
চিকিৎসক বদলির প্রতিবাদে উনকোটি জেলার ফটিকরায় প্রাথমিক হাসপাতালের সামনে উত্তাল প্রতিবাদে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগী থেকে গ্রামের মানুষ। শরীরে স্যালাইন লাগানো অবস্থায় আন্দোলনে নেমে আসেলেন রোগীরা। ঘন ঘন চিকিৎসক বদলি হচ্ছে ফটিকরায় হাসপাতাল থেকে। এর বিরুদ্ধে সোচ্চার এলাকার মানুষ।ফটিকরায় হাসপাতালের চিকিৎক মৃন্ময় চাকমার বদলির বিরুদ্ধে এক জোট হয়ে রুখে দাঁড়ালেন গ্রামবাসীরা। তারা অবরোধ করেন ফটিকরায় হাসপাতালের সামনে কুমারঘাট ফটিকরায়ের-সড়ক। পরে মহকুমা স্বাস্থ্য আধিকারিকের আশ্বাসে ওঠে অবরোধ। হাসপাতালের চিকিৎসকের বদলি আটকাতে রাস্তায় বসে পড়েছেন মানুষ। অতীতে এমন ঘটনা দেখা যেত শুধুমাত্র চলচ্চিত্র জগতে। কিন্তু বর্তমানে বাস্তবেও ঘটছে এমন ঘটনা।
ত্রিপুরার ঊনকোটি জেলার ফটিকরায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসক তথা মেডিকেল অফিসার মৃন্ময় চাকমার বদলির আদেশ ঘিরে শনিবার সকাল থেকে উত্তাল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় ফটিকরায় হাসপাতালের সামনে। সম্প্রতি ফটিকরায় হাসপাতাল থেকে চিকিৎসক মৃন্ময় চাকমাকে সরিয়ে কুমারঘাটে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় স্বাস্থ্য দপ্তর। কুমারঘাট থেকে ডঃ রাজর্ষি দাসকে মৃন্ময় চাকমার স্থলাভিষিক্ত করলেও তাতে আপত্তি জানাতে শুরু করেন ফটিকরায় এলাকার জনগণ ও হাসপাতালে ভর্তি রোগীরা। চিকিৎসকের বদলির খবর এলাকায় চাউর হতেই শুরু হয় প্রতিবাদ। তারা শনিবার সকালেই ফটিকরায় হাসপাতালের সামনে অবরোধ করে বসেন কুমারঘাট-ফটিকরায়ের রাস্তা। শুধু সাধারণ মানুষই নয়, হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীরাও নিজেদের শরীরে সেলাইন লাগানো অবস্থায় এদিন নেমে আসেন আন্দোলনে। এবিষয়ে শুভ কর নামে এক আন্দোলনকারী বলেন, ফটিকরায় হাসপাতালে কোন ভালো চিকিৎসক থাকলে তাকে বেশিদিন রাখা হয়না সেখানে। মৃন্ময় চাকমা বিগত তিন চার মাস ধরে রয়েছে ফটিকরায় হাসপাতালে। এরই মধ্যে তাকে কুমারঘাট হাসপাতালে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ জারি হয়েছে। তাই মৃন্ময় চাকমাকে ফটিকরায় হাসপাতালে রাখতে আন্দোলনে নেমেছেন গ্রামবাসীরা। তিনি বলেন ফটিকরায় হাসপাতাল থেকে চিকিৎসক মিঠুন দাসকেও বদলি করা হয়েছে কিছুদিন আগে। এর মাস তিনেকের মাঝে মৃন্ময় চাকমাকে বদলির ঘটনা মেনে নিতে পারছেন না তারা। তিনি দাবী জানান মৃন্ময় চাকমাকে চাকুরিতে পুনর্বহাল করে এবং পুনরায় মিঠুন দাসকে ফিরিয়ে আনা হোক ফটিকরায় হাসপাতালে।
এদিন চিকিৎসককে আটকানোর দাবিতে হাসপাতালের বিছানা থেকে স্যালাইন হাতে প্রতিবাদে নেমে আসেন রোগীরাও। হাসপাতালে চিকিৎসারত প্রতিমা শব্দকর নামে আন্দোলনে আসা এক রোগী জানান, চিকিৎসক মৃন্ময় চাকমার বদলি আটকাতে রাস্তায় নেমে এসেছেন তারা। তাদের প্রশ্ন ওনার মত ভাল চিকিৎসক হাসপাতাল থেকে চলে গেলে রোগীরা যাবেন কোথায়? তিনি দাবি করেন রোগীদের ভালো চিকিৎসা পরিষেবা দিয়ে থাকেন এই চিকিৎসক। তাই উনাকে এই হাসপাতাল থেকে কিছুতেই যেতে দেবেন না তারা।বাইট--প্রতিমা শব্দকর (আন্দোলনকারী)।
আগে এই হাসপাতালে তিনজন চিকিৎসক থাকলেও বর্তমানে রয়েছেন মাত্র দুজন চিকিৎসক। এরই মধ্যে সাধারণ মানুষের মতে উনার মত দক্ষ চিকিৎসকে সরানোর কারণেই আন্দোলনে নামতে হয়েছে তাদেরকে।
আন্দোলনের জেরে রাস্তার দুপাশে আটকে পড়ে যানবাহন। খবর পেয়ে সেখানে পৌছায় ফটিকরায় থানার পুলিশ। ছুটে আসেন মহকুমা স্বাস্থ্য আধিকারিক ডক্টর সুচরিত চাকমা। তিনি কথা বলেন আন্দোলনকারীদের সঙ্গে। চিকিৎসক বদলির প্রসঙ্গে মহকুমা স্বাস্থ্য আধিকারিক বলেন, মৃন্ময় চাকমাকে ফটিকরায় হাসপাতালে রাখার জন্য এলাকাবাসীর দাবিটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের গোচরে নিয়েছেন তিনি এবং এর প্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষ থেকে আপাতত মৃন্ময় চাকমাকে ফটিকরায় হাসপাতাল থেকে সরানো হবেনা বলে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন মহকুমা স্বাস্থ্য আধিকারিক। পরবর্তী কোনো আদেশ না আসা পর্যন্ত মৃন্ময় চাকমা হাসপাতালে বহাল থাকবেন বলে জানিয়েছেন মহকুমা স্বাস্থ্য আধিকারিক। মৃন্ময়ী চাকমার পরিবর্তে রাজর্ষি দাসকে ফটিকরায় হাসপাতালে আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।বাইট--ডক্টর সুচরিত চাকমা (মহকুমা স্বাস্থ্য আধিকারিক)।
আন্দোলনের একপর্যায়ে হাসপাতালের মূল গেইটটিও বন্ধ করে দেয় আন্দোলনকারীরা। পরে মহকুমা স্বাস্থ্য আধিকারিকের কাছ থেকে চিকিৎসকের বদলি আপাতত হ্রদ করার আশ্বাস পেয়ে আন্দোলন প্রত্যাহার করেন প্রতিবাদকারীরা। এর পাশাপাশি ফটিকরায় হাসপাতালে সরকারি এম্বুলেন্স পরিষেবাও অনিয়মিত বলে উঠছে অভিযোগ।
অতীতে এসব কেবল দেখা যেত চলচ্চিত্র জগতে। কিন্তু বর্তমানে অতীতের সেই চিত্রনাট্য দেখা যাচ্ছে বাস্তবের মাটিতেও।
এমনিতেই রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবা বেহাল হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ। হাসপাতালগুলো ধুঁকছে পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীর অভাবে। এই পরিস্থিতিতে হাসপাতাল থেকে দক্ষ চিকিৎসককে সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ ছড়িয়েছে এলাকাবাসীর মধ্যে।