নিউস ত্রিপুরা প্রতিনিধিঃ ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ পশ্চিম তীরে দায়িত্বে থাকা ইসরাইলি সেনাবাহিনীর (আইডিএফ) সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান মেজর জেনারেল আভি ব্লুথকে সরিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়ায় সরকার ও সামরিক বাহিনীর মধ্যে প্রকাশ্য বিরোধ তৈরি হয়েছে।রোববার (২ আগস্ট) রাতে ডানপন্থী টেলিভিশন চ্যানেল ১৪-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কাটজ বলেন, ব্লুথ তার নীতির বিরোধিতা করে এক সহিংস ইহুদি বসতি স্থাপনকারীর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞা নবায়নের চেষ্টা করেছেন। তাই তিনি ব্লুথের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে আইডিএফের পার্সোনেল ডিরেক্টরেটের প্রধান মেজর জেনারেল দাদো বার কালিফাকে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।তবে কাটজের ঘোষণার পরপরই আইডিএফ এক বিবৃতিতে জানায়, আভি ব্লুথ তার বর্তমান দায়িত্বেই বহাল থাকছেন। সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল এয়াল জামির এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত নেননি এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ঘোষণাটি তার সঙ্গে সমন্বয় করে দেওয়া হয়নি।আইডিএফ আরও জানায়, বর্তমান সংবেদনশীল পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা কোনো কমান্ডারকে পরিবর্তনের পরিকল্পনা নেই। ভবিষ্যতে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা নির্ধারিত সামরিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই হবে।বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন পশ্চিম তীরের এক উগ্র ইহুদি বসতি স্থাপনকারী তাল ইনোন দারদিক। গত মার্চে পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনি গ্রাম খিরবেত হুমসায় এক ফিলিস্তিনির ওপর নৃশংস হামলার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীরা ওই ব্যক্তিকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন চালায় এবং গ্রামজুড়ে ঘোরায়। যদিও দারদিক এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।দারদিকের বিরুদ্ধে জারি করা প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞা সম্প্রতি কারিগরি কারণে বাতিল হয়ে যায়। কাটজ ব্লুথকে সেই নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল না করার নির্দেশ দিলেও ব্লুথ ও সামরিক আইন বিভাগ আদালতে এর বিরুদ্ধে আপিল করে। কাটজের অভিযোগ, এটি তার নীতির পরিপন্থী।সাক্ষাৎকারে কাটজ বলেন, তিনি এমন একটি সেন্ট্রাল কমান্ড চান, যা শত্রুদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেবে এবং পশ্চিম তীরের ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করবে। তিনি দাবি করেন, সামরিক ব্যবস্থার ওপর তার নিয়ন্ত্রণ ‘সম্পূর্ণ’।আভি ব্লুথ ২০২৪ সালের জুলাই থেকে সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা ও ‘ইহুদি সন্ত্রাসবাদ’-এর সমালোচনা করায় দীর্ঘদিন ধরেই তিনি উগ্র ডানপন্থী গোষ্ঠীর সমালোচনার মুখে ছিলেন। আবার বামপন্থী সংগঠনগুলোও অভিযোগ করেছে, বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা দমনে তিনি যথেষ্ট কঠোর ছিলেন না।ঘটনার পর বিরোধী নেতারা কাটজের তীব্র সমালোচনা করেন।সাবেক সেনাপ্রধান ও বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকোট বলেন, এটি রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সামরিক বাহিনীর সম্পর্কের ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা। তার ভাষায়, ইসরাইল রাষ্ট্র কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয় এবং আইডিএফকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা উচিত নয়।সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটও সরকারের সমালোচনা করে বলেন, সরকার এখন নিজের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধেই অবস্থান নিয়েছে। তার দাবি, এতে সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরে আরও বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে।অন্যদিকে উগ্র ডানপন্থী সংসদ সদস্য লিমোর সন হার-মেলেখ কাটজের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তার দাবি, ব্লুথ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন এবং ফিলিস্তিনি সন্ত্রাসবাদের বদলে ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াকেই অগ্রাধিকার দিয়েছেন।এদিকে কাটজের কার্যালয় দাবি করেছে, সেনাপ্রধান এয়াল জামির চলতি বছরের এপ্রিলেই দাদো বার কালিফার নাম ব্লুথের উত্তরসূরি হিসেবে সুপারিশ করেছিলেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী জুন মাসে তার সাক্ষাৎকারও নিয়েছিলেন। তবে আইডিএফের বক্তব্য অনুযায়ী, এ মুহূর্তে ব্লুথকে সরানোর কোনো সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়নি।বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা ইসরাইলের রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সামরিক বাহিনীর মধ্যে চলমান ক্ষমতার দ্বন্দ্বকে আরও প্রকাশ্যে নিয়ে এসেছে। এর আগে জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাদের নিয়োগ নিয়েও প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাটজ ও সেনাপ্রধান জামিরের মধ্যে প্রকাশ্য মতবিরোধ দেখা গিয়েছিল।