নিউস ত্রিপুরা প্রতিনিধিঃ বিদ্যুৎ পরিষেবাকে সার্বজনীন মৌলিক মানবাধিকার হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান, বিদ্যুৎ মাসুল বৃদ্ধি রদ এবং পরিষেবা। বেসরকারিকরণের অপচেষ্টা বন্ধের দাবিতে সরব হলো 'বিদ্যুৎ গ্রাহক ও কর্মচারী কল্যাণ সমিতি'। উত্তর ত্রিপুরা জেলার ধর্মনগরে সংগঠনের বিভাগীয় কমিটির পক্ষ থেকে TSECL -এর এডিশনাল জেনারেল ম্যানেজারের কাছে ১২ দফা দাবি সনদসহ একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। স্মারকলিপিতে জানানো হয়, ভারত সরকারের বিদ্যুৎ ও শক্তি নীতির দরুন সাধারণ মানুষের বিদ্যুৎ পাওয়ার অধিকার মারাত্মকভাবে সংকুচিত হচ্ছে। পাশাপাশি ডিউটি চার্জ, ফুয়েল চার্জ ও ফিক্সড চার্জের নামে যে অযৌক্তিক শুল্ক চাপানো হয়েছে, তা সাধারণ গ্রাহকদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা তৈরি করছে।সংগঠনের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলা হয়, বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণসহ সমস্ত ব্যবস্থা শতভাগ সরকারি মালিকানা ও সরকারের প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। স্মার্ট মিটার বসানোর উদ্যোগ প্রত্যাহার করে পুরনো ডিজিটাল মিটার ফিরিয়ে আনা এবং প্রিপেইড গ্রাহকদের রিচার্জ জটিলতা অবিলম্ব দূর করার দাবি জানানো হয়।এছাড়া, বিদ্যুৎ সরবরাহের গুণগত মান বৃদ্ধি, পর্যাপ্ত কর্মী নিয়োগ, চুক্তিভিত্তিক ও আউটসোর্সিং কর্মীদের নিয়মিতকরণ এবং চাকরিকালীন দুর্ঘটনায় আহত কর্মীদের নিখরচা চিকিৎসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করারও জোর দাবি তোলা হয়েছে।একইসাথে, সামান্য বৃষ্টিপাত হলেই সমগ্র মহকুমা জুড়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ বিভ্রাটের যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়, তা থেকে ধর্মনগরবাসীকে স্থায়ী মুক্তি দেওয়ার দাবি জানিয়ে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয় যে—বিদ্যুৎ দপ্তর ও রাজ্য সরকার দ্রুত এসব দাবির সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে আগামী দিনে আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে। এই আন্দোলন কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন বিদ্যুৎ গ্ৰাহক ও কর্মচারী কল্যাণ সমিতির ধর্মনগর মহকুমা সম্পাদক অজয় কুমার দেব, সভাপতি সুভাষ রায়, সদস্য মানিক লাল নাথ,পার্থ প্রতিম নাথ,ও সজল চক্রবর্তী।