নিউস ত্রিপুরা প্রতিনিধিঃ বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেত্রী শাবানা আজমি ও কিংবদন্তি কবি, গীতিকার ও চিত্রনাট্যকার জাভেদ আখতার চার দশকেরও বেশি সময় ধরে একসঙ্গে পথ চলছেন। সম্প্রতি এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে নিজেদের বৈবাহিক জীবন নিয়ে অত্যন্ত খোলামেলা আলোচনায় অংশ নেন তিনি। দাম্পত্য থেকে জাভেদের প্রথম স্ত্রী হানি ইরানির সঙ্গে সম্পর্কের সমীকরণ নিয়েও কথা বললেন অভিনেত্রী শাবানা আজমি। জাভেদ আখতারের সঙ্গে বৈবাহিক জীবন নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য শাবানা আজমির! বাইরে থেকে তাদের সম্পর্ক যতটা নিখুঁত দেখায়, বাস্তবে কি বিষয়টি ঠিক তেমনই— আর পাঁচটা দম্পতির মতো তাদের মধ্যেও কথা কাটাকাটি বা ঝগড়া কি হয় না?জাভেদ আখতারের প্রতি আকর্ষণ কীভাবে তৈরি হয়েছিল, তা জানাতে গিয়ে বর্ষীয়ান অভিনেত্রী শাবানা আজমি বলেন, কবি-লেখকের বুদ্ধিমত্তা ও রসবোধই সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করেছিল। আমি এ যাবৎ যত মানুষের সঙ্গে মিশেছি, তার মধ্যে জাভেদকেই আমার প্রখর বুদ্ধিসম্পন্ন বলে মনে হয়েছিল। তিনি বলেন, আমার বাবা (কৈফি আজমি) এবং জাভেদের মধ্যে ভীষণ মিল পেতাম। জাভেদকে আবিষ্কার করতে গিয়ে মনে হয়েছিল— আমি আমার বাবাকেই নতুন করে খুঁজে পাচ্ছি। দুজনের পারিবারিক প্রেক্ষাপটও এক। বাবা-মায়েরা প্রগতিশীল লেখক ও কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, আর উর্দু কবিতা ভালোবাসতেন।দীর্ঘ ৪০ বছরের বেশি দাম্পত্য জীবন প্রসঙ্গে শাবানা আজমি বলেন, ‘আমাদের মধ্যে প্রচুর ঝগড়া হয়। এমন নয় যে সবসময় সবকিছু খুব মসৃণভাবে চলে। কিন্তু আমাদের বন্ধুত্বের ভিত অত্যন্ত শক্ত এবং দুনিয়াকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি বা রাজনৈতিক ও সামাজিক আদর্শ একদম এক। আমার মনে হয় সেটাই যে কোনো সম্পকর্কে টিকিয়ে রাখার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।’এর আগে অভিনেত্রী শাবানা আজমি ও জাভেদ আখতার ১৯৮৪ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার সময় কম বিতর্কের মুখে পড়তে হয়নি। কারণ সেই সময় জাভেদ আখতার চিত্রনাট্যকার হানি ইরানির সঙ্গে বিবাহিত ছিলেন এবং তাদের দুই সন্তান (ফারহান ও জোয়া আখতার) ছিল। পুরোনো ক্ষত ও কটূক্তি ভুলে কীভাবে সুস্থ পারিবারিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছে, সে বিষয়ে শাবানা বলেন, হানি আমাদের পরিবারেরই একজন সদস্য। হানি কখনই তার সন্তানদের মনে ‘সৎমা’ শাবানাকে নিয়ে হিংসা বা বিদ্বেষ ছড়াননি। এই উদার মনোভাবের কারণেই পুরো পরিবারটি আজও একসূত্রে বাঁধা রয়েছে।