নিউস ত্রিপুরা প্রতিনিধিঃ মঙ্গলবার থেকে রাজধানীর আগরতলা টাউন হলে সারা ভারত কৃষক সভার ত্রিপুরা রাজ্য শাখার ২২ তম রাজ্য সম্মেলন শুরু হয়েছে। এই সম্মেলন উপলক্ষে এদিন দুপুরে রাজধানীর স্বামী বিবেকানন্দ ময়দানে এক প্রকাশ্য সমাবেশের আয়োজন করা হয়। এই প্রকাশ্য সমাবেশে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের শ্রমিক কৃষক থেকে শুরু করে খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। প্রকাশ্য সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সারা ভারত কৃষক সভার রাষ্ট্রীয় সাধারণ সম্পাদক বিজু কৃষ্ণান ,রাজ্যের বিরোধী দলনেতা জীতেন চৌধুরী ,সারা ভারত কৃষক সভার রাজ্য সম্পাদক পবিত্র কর সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। প্রকাশ্য সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সারাদেশের কৃষকদের সমস্যার কথা তুলে ধরেন সংগঠনের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক বিজু কৃষ্ণান। তিনি বলেন ,ত্রিপুরা রাজ্যের কৃষকরাও ডাবল ইঞ্জিনের সরকারের সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। রাজ্যের ধান চাষী এবং রাবার চাষীরা গভীর সমস্যায় রয়েছেন ।তারা উৎপাদিত ফসলের সঠিক মূল্য পাচ্ছেন না। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের কোন অনুদান দেওয়া হচ্ছে না। সরকারের গোদাম থেকে ইউরিয়া সার খোলা বাজারে চলে যাচ্ছে। ফলে ফসল উৎপাদনে কৃষকদের ব্যয় হচ্ছে বেশি। অথচ তারা উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন রাজ্যের বিরোধী জননেতা জীতেন চৌধুরী। তিনি বলেন ,সারা ভারত কৃষক সভার এই প্রকাশ্য সমাবেশে লোকজনরা যেন না আসতে পারেন তার লক্ষ্যে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে গত দুদিন ধরে হুমকির বার্তা চলছিল। মঙ্গলবার কোন কোন এলাকায় গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তারপরেও জনগণের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। বিরোধী দলনেতা বলেন, রাজ্যে গণতন্ত্র ভুলণ্ঠিত হচ্ছে ।অচল হয়ে পড়ছে সংবিধান। এই অবস্থাকেই শাসক দল মডেল রাজ্য হিসেবে আখ্যায়িত করে চলছে ।এই মডেলই আগামী ভারতবর্ষের জন্য তারা তৈরি করতে চায়। এর বিরুদ্ধে শ্রমিক ,কৃষক, ছাত্র ,যুবক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষকে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান বিরোধী দলনেতা জীতেন চৌধুরী।এই প্রকাশ্য সমাবেশে জনগণের উপস্থিতি নিয়ে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে। বলাবলি চলছে, সিআইটিইউ রাজ্য সম্মেলন এবং সাম্প্রতিক জেলে ভরো আন্দোলনের থেকেও এই প্রকাশ্য সমাবেশে জনগণের উপস্থিতি ছিল উল্লেখ জনক ভাবে বেশি। মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত আগরতলা টাউনহলে চলবে সারা ভারত কৃষক সভার রাজ্য শাখার ২২ তম রাজ্য সম্মেলন।