পশ্চিমবঙ্গে সিপিআই(এম)-এর আর কিছুই অবশিষ্ট নেই : দিলীপ ঘোষ

Sep 22, 2026

পশ্চিমবঙ্গে সিপিআই(এম)-এর আর কিছুই অবশিষ্ট নেই : দিলীপ ঘোষ

নিউস ত্রিপুরা প্রতিনিধিঃ রাজ্যে সিপিআই(এম)-এর দলীয় কার্যালয়গুলিতে একের পর এক ভাঙচুরের অভিযোগ নিয়ে বামেদের চরম কটাক্ষ করলেন পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। সোমবার সকালে শিলিগুড়িতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দিলীপ দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গে সিপিআই(এম)-এর রাজনৈতিক অস্তিত্ব কার্যত শেষ। স্রেফ সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে বেঁচে থাকতেই তারা এমন নাটক তৈরি করছে। দিলীপ বলেন, "সিপিআই(এম)-এর আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। নিজেরাই ভাঙচুর চালিয়ে প্রতিদিন খবরে থাকার চেষ্টা করছে। আদৌ ওদের অফিস কোথায়? ফুটপাথের ওপর কোথাও একটা অফিস বানিয়ে ফেলে, তারপর নিজেদের লোকেরাই গিয়ে সেটা ভেঙে দেয়। আর সংবাদমাধ্যম তা নিয়ে বড় খবর বানায়। আপনাদের কাছে এটা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, আমাদের কাছে একেবারেই নয়।" রাজ্যের দুটি বিধানসভা কেন্দ্রের আসন্ন উপনির্বাচন নিয়েও কটাক্ষ শানিয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, "বাংলায় মানুষ সব নির্বাচন নিয়েই খুব উৎসাহ দেখায়, বিশেষ করে সংবাদমাধ্যম বিষয়টিকে এমন এক মহোৎসবে পরিণত করে যেন দেশে আর অন্য কোনও সমস্যাই নেই। কোনও সমস্যা নেই বলেই উপনির্বাচন নিয়ে এত উন্মাদনা! সবাই যেন এটা একটা বিনোদনের খোরাক হিসেবে নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। লড়তে দিন ওদের; এখানে নির্বাচন উৎসবের মতো পালিত হয়, আর চূড়ান্ত ফলাফল কী হতে চলেছে তা আগে থেকেই সবাই জানে।"ইন্ডি জোট এবং তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিঁধে দিলীপ ঘোষ বলেন, "জোট কোথায়? সেই ইন্ডি জোট গেল কোথায়? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই হারিয়ে গেছেন। দাবি করেছিলেন তিনি নাকি জোট তৈরি করেছেন, অথচ এখন নিজের দলের ওপরই তাঁর নিয়ন্ত্রণ নেই—দলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট গেছে, দলীয় প্রতীক গেছে, পার্টি অফিস গেছে, আর এখন প্রার্থীরাও হাতছাড়া। এমন একজন নেত্রীর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর কী গ্রহণযোগ্যতা থাকতে পারে? তাই চিন্তা করার কিছু নেই; দেশ শক্তিশালী হাতে রয়েছে, দেশ এগিয়ে চলেছে এবং জনগণও খুশি।"প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন, "প্রধানমন্ত্রী মোদীর নেতৃত্ব নিয়ে কোনও প্রশ্নই নেই। দেশের মানুষ বারবার তাঁকে সমর্থন ও গ্রহণ করেছে। এখন বিশ্বের বড় বড় শক্তি তাঁকে সামনে এনে বসাচ্ছে। বিশ্বজুড়ে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম যখন আকাশছোঁয়া—পাকিস্তানে ৪০০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছে—ভারতে তা স্থিতিশীল রাখা হয়েছে। সরকার নিজে ক্ষতি স্বীকার করেছে যাতে সাধারণ মানুষের ওপর কোনও চাপ না পড়ে। এটাই আসল নেতৃত্ব। এমন বৈশ্বিক পরিস্থিতিতেও ৭.৮% জিডিপি বৃদ্ধি প্রায় অসম্ভব মনে হচ্ছিল, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী মোদী তা সম্ভব করে দেখিয়েছেন।"

বিভাগ