নিউস ত্রিপুরা প্রতিনিধিঃ কফ সিরাপ পাচারের সন্দেহে কুমারঘাটের শাসক দলীয় নেতার হোটেল থেকে পুলিশের হাতে আটক আগরতলার আমতলী এলাকার চার ব্যাক্তি। ঘটনায় ব্যাপক গুঞ্জন কুমারঘাটে। কুমারঘাটে নেশাদ্রব্য উদ্ধারে বড়সড় সাফল্য ঊনকোটি জেলা পুলিশ। আশ্রমপল্লী এলাকার একটি বাড়ির ভেতরে থাকা বিলাসবহুল গাড়ি থেকে উদ্ধার বিপুল পরিমাণ কফ সিরাপ। কুমারঘাটের এক শাসকদলীয় নেতার হোটেল থেকে কফ সিরাপ পাচারের সন্দেহে চার ব্যক্তিকে আটক করলো পুলিশ।এবিষয়ে মহকুমা পুলিশ আধিকারিক ডেভিড দেববর্মা জানান, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ঊনকোটি জেলা পুলিশ সুপার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে কুমারঘাট ও কৈলাশহরের মহকুমা পুলিশ আধিকারিকদের নিয়ে যৌথ অভিযান চালানো হয়। প্রথমে কুমারঘাটের শুভদৃষ্টি হোটেল থেকে চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়।জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আশ্রমপল্লীর একটি বাড়িতে পৌঁছায় পুলিশ। সেখানে গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে কার্টনের ভিতর থেকে উদ্ধার হয় তিন হাজার বোতল কফ সিরাপ। পুলিশের দাবি, উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর আনুমানিক কালোবাজারি মূল্য প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা। এরইমধ্যে গাড়িতে বেশ কয়েকটি নম্বর প্লেট থাকার বিষয়ও নজরে এসেছে পুলিশের। মহকুমা পুলিশ আধিকারিক জানান, গাড়িটিতে ত্রিপুরার নম্বর প্লেট থাকলেও, গাড়ির ভিতর থেকে উদ্ধার হয়েছে রাজ্য ও বহিঃরাজ্যের আরও চারটি নম্বর প্লেট। গোটা ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে এবং মামলা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান মহকুমা পুলিশ আধিকারিক।সূত্রের খবর, যে শুভদৃষ্টি হোটেল থেকে ঐ চারজনকে আটক করেছে পুলিশ সেই হোটেলটি কুমারঘাটের এক প্রভাবশালী শাসক দলীয় নেতার। যে শাসক দলীয় নেতাদের মুখে নেশামুক্ত ত্রিপুরার স্লোগান ধ্বনিত হয় সেই নেতাদের হোটেল থেকেই এখন উদ্ধার হচ্ছে নেশা কারবারিরা।তবে পুলিশের দাবি, তল্লাশির সময় কাউকেই পাওয়া যায়নি আশ্রমপল্লীর ঐ বাড়িতে। বাড়ির মালিকের সন্ধানেও তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।এদিকে, এত বিপুল পরিমাণ সামগ্রী কীভাবে ঐ বাড়িতে মজুত হল, এর নেপথ্যে কারা রয়েছে, তা নিয়েই উঠছে প্রশ্ন। ঘটনায় রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের কোনও যোগসূত্র রয়েছে কিনা, তা নিয়েও এলাকায় শুরু হয়েছে আলোচনা। তবে এনিয়ে এখনও কোন তথ্য প্রকাশ করেনি পুলিশ।ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তুলছেন সচেতন মহল।