নিউস ত্রিপুরা প্রতিনিধিঃ নারী স্বনির্ভরতা বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে আমবাসায় অনুষ্ঠিত হলো ‘স্বপ্নের সিঁড়ি মহিলা ক্লাস্টার বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেড’-এর চতুর্থ বার্ষিক সাধারণ সভা। বুধবার আমবাসার জওহরনগর এলাকায় ডিএম অফিসের নিকটবর্তী স্বপ্নের সিঁড়ি সিএলএফ প্রাঙ্গণে এই বার্ষিক সাধারণ সভার আয়োজন করা হয়। ত্রিপুরা রুরাল লাইভলিহুড মিশনের আমবাসা আর.ডি. ব্লকের ব্লক মিশন ম্যানেজমেন্ট ইউনিটের উদ্যোগে আয়োজিত এই সভায় স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মাধ্যমে মহিলাদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলা, তাঁদের আয় বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করা এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে মহিলাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে সভার শুভ উদ্বোধন করেন ডিস্ট্রিক্ট কোঅর্ডিনেটর অফ আইবিসিবি সুদীপ্ত ধর। অনুষ্ঠানে অন্যান্য অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরা গ্রামীণ ব্যাংকের জহরনগর শাখার শাখা সঞ্চালক জয়ন্ত দেবনাথ, সেন্ট্রাল ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার আমবাসা শাখার শাখা সঞ্চালক নবেন্দু দাস, আমবাসা ব্লকের ব্লক মিশন কো-অর্ডিনেটর যহন দেববর্মা, ‘স্বপ্নের সিঁড়ি মহিলা ক্লাস্টার বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেড’-এর সভাপতি নির্মলতা দেববর্মা সহ সমিতির সদস্যা ও সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা। বার্ষিক সাধারণ সভায় সমিতির বিগত এক বছরের বিভিন্ন কার্যক্রম, সাফল্য, আর্থিক অগ্রগতি এবং সদস্যাদের স্বনির্ভরতার ক্ষেত্রে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি আগামী দিনে সমিতির কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ, নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, মহিলাদের আর্থিক কর্মকাণ্ডে আরও বেশি করে যুক্ত করা এবং সমিতির আর্থিক ভিত্তি শক্তিশালী করার লক্ষ্যে একাধিক কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় বক্তারা বলেন, গ্রামীণ এলাকার মহিলাদের স্বনির্ভর করে তুলতে স্বনির্ভর গোষ্ঠী ও ক্লাস্টারভিত্তিক সমবায় ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। মহিলাদের নিজস্ব উদ্যোগ, দক্ষতা ও পরিশ্রমকে কাজে লাগিয়ে তাঁদের আয়ের পথ সুগম করার পাশাপাশি পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতি ঘটানো সম্ভব। একইসঙ্গে এই ধরনের উদ্যোগ গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বার্ষিক সাধারণ সভাকে কেন্দ্র করে স্বপ্নের সিঁড়ি সিএলএফ প্রাঙ্গণে সদস্যাদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। আগামী দিনে আরও বৃহত্তর পরিসরে মহিলা স্বনির্ভরতা ও গ্রামীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করার মধ্য দিয়ে সভার সমাপ্তি ঘটে।