নিউস ত্রিপুরা প্রতিনিধিঃ সামনেই বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব শারদীয়া দুর্গোৎসব। ইতিমধ্যেই দেবী দুর্গার আগমনের প্রতীক্ষায় গোটা রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে উৎসবের প্রস্তুতি। পুজোর দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে ব্যস্ততা। বিশেষ করে মৃৎশিল্পীদের কর্মব্যস্ততা এখন তুঙ্গে। মাটির কাঠামোয় মায়ের মৃন্ময়ী রূপকে চিন্ময়ী রূপ দিতে দিন-রাত এক করে কাজ করে চলেছেন শিল্পীরা।এই পরিস্থিতিতে এবছর প্রতিমার চাহিদা, তৈরি করতে গিয়ে খরচ এবং লাভের সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে সাংবাদিকদের গন্তব্য ছিল তেলিয়ামুড়ার নেতাজিনগর এলাকার মৃৎশিল্পী দীপক দেবনাথের প্রতিমা তৈরির কারখানায়। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, দীপক বাবু সহ তাঁর কারিগররা মায়ের প্রতিমা তৈরির কাজে চরম ব্যস্ত। কারও হাতে মাটির কাজ, কেউ ব্যস্ত প্রতিমার কাঠামোয়, আবার কেউ ব্যস্ত রং ও সাজসজ্জার কাজে।সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মৃৎশিল্পী দীপক দেবনাথ জানান, দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর ধরে তিনি প্রতিমা তৈরির কাজের সঙ্গে যুক্ত। এই শিল্পকর্মই তাঁর পরিবারের জীবিকা নির্বাহের অন্যতম প্রধান অবলম্বন। প্রতিমা তৈরি করেই সংসার প্রতিপালনের পাশাপাশি সন্তানদের পড়াশোনার খরচও বহন করেন তিনি। দীপক দেবনাথ জানান, এবছর দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে প্রতিমার চাহিদা যথেষ্ট বেশি। তাঁর কর্মজীবনে এবারই সর্বাধিক সংখ্যক, মোট ১৯টি দুর্গাপ্রতিমা তৈরির কাজ হাতে নিয়েছেন তিনি। তবে প্রতিমার চাহিদা বাড়লেও সেই অনুপাতে লাভের মুখ দেখছেন না মৃৎশিল্পীরা। প্রতিমা তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় মাটি, খড়, বাঁশ, রং, সাজসজ্জার সামগ্রীসহ বিভিন্ন আনুষঙ্গিক জিনিসের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে উৎপাদন খরচও বেড়েছে অনেকটাই।তাঁর কথায়, বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্যবসায়িকভাবে খুব বেশি লাভ না হলেও এই পেশার মাধ্যমেই সংসার চালানোর মতো আয় হচ্ছে। তবে সমস্যা তৈরি হয়েছে দক্ষ শ্রমিকের অভাবে। আধুনিকতার যুগে নবপ্রজন্মের অনেকেই প্রতিমা তৈরির মতো ঐতিহ্যবাহী শিল্পের প্রতি আগ্রহী না হওয়ায় কারিগরের সংখ্যা ক্রমশ কমছে। ফলে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও অতিরিক্ত অর্ডার নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। শ্রমিকের অভাবে বেশ কিছু প্রতিমার অর্ডার ফিরিয়ে দিতে হয়েছে বলেও জানান তিনি।একদিকে উৎসবের আনন্দে মেতে ওঠার প্রস্তুতি, অন্যদিকে মূল্যবৃদ্ধি ও শ্রমিক সংকট—এই দুইয়ের টানাপোড়েনের মধ্যেই মৃন্ময়ী মাকে চিন্ময়ী রূপ দেওয়ার কাজে নিরলস পরিশ্রম করে চলেছেন দীপক দেবনাথের মতো মৃৎশিল্পীরা। তাঁদের হাতের ছোঁয়াতেই আর মাত্র কয়েকদিন পর শারদোৎসবে প্রাণ পাবে দেবী দুর্গার প্রতিমা।