‘যুক্তরাষ্ট্রে ইরানকে হামলা করতে দিন’, ট্রাম্পের মন্তব্যে তোলপাড়

Oct 07, 2026

‘যুক্তরাষ্ট্রে ইরানকে হামলা করতে দিন’, ট্রাম্পের মন্তব্যে তোলপাড়

নিউস ত্রিপুরা প্রতিনিধিঃইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি শহর ধ্বংস হলেও তা মেনে নেওয়ার ইঙ্গিত দেওয়ায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেস ও সান দিয়েগোকে ইরানের হামলার জন্য ‘ছোট মূল্য’ হিসেবে মেনে নেওয়ার মন্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়েছেন ডেমোক্র্যাটদের পাশাপাশি ট্রাম্পের নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির নেতারাও।সোমবার নেব্রাস্কায় এক নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প বলেন, বিশ্ব ও যুক্তরাষ্ট্রকে নিরাপদ রাখতে কিছু ত্যাগ স্বীকার করতে হবে। এর ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, ইরান চাইলে একটি মার্কিন শহরে হামলা চালাতে পারে।ট্রাম্প বলেন, ‘তারা একটি শহর ধ্বংস করতে পারে। লস অ্যাঞ্জেলেসে হামলা করতে দিন, সান দিয়েগোতেও করতে দিন। এটি খুবই সামান্য মূল্য এবং খুব শিগগিরই সব শেষ হয়ে যাবে।’ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পরপরই রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাট গভর্নর গ্যাভিন নিউজম মন্তব্যটিকে ‘উন্মাদনা’ ও ‘বিপজ্জনক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি কংগ্রেসকে ট্রাম্পের আচরণ নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।নিউজম বলেন, যে প্রেসিডেন্ট এর আগে লস অ্যাঞ্জেলেসে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করেছিলেন এবং শহরটিতে ৭০০ মেরিন সেনা পাঠিয়েছিলেন, তিনিই এখন ইরানকে লস অ্যাঞ্জেলেস ও সান দিয়েগোতে হামলার সুযোগ দেওয়ার কথা বলছেন।তিনি আরও বলেন, যারা মনে করেননি আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ, ট্রাম্পের এই বক্তব্য তাদের নির্বাচনে ভোট দেওয়ার গুরুত্ব বুঝিয়ে দেবে।তবে শুধু ডেমোক্র্যাটরাই ট্রাম্পের মন্তব্যের বিরোধিতা করেননি। তার নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির কয়েকজন নেতাও প্রকাশ্যে আপত্তি জানিয়েছেন।সান দিয়েগোর কাছে প্রতিনিধি পরিষদের একটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা রিপাবলিকান প্রার্থী জিম ডেসমন্ড বলেন, তিনি ট্রাম্পের বক্তব্যের সঙ্গে ‘দৃঢ়ভাবে একমত নন’। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষা ও ইরানের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া জরুরি হলেও মার্কিন জনগণ ও দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই প্রেসিডেন্টের প্রথম দায়িত্ব।ডেসমন্ড বলেন, ‘কোনো মার্কিন শহরই বিসর্জনযোগ্য নয় এবং কোনো মার্কিন পরিবারকে কখনোই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।’উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ার রিপাবলিকানদের সঙ্গে ককাস করা স্বতন্ত্র প্রতিনিধি কেভিন কিলিও ট্রাম্পের মন্তব্যকে ‘সহায়ক নয়’ বলে মন্তব্য করেছেন।তবে হোয়াইট হাউস ট্রাম্পের বক্তব্য নিয়ে সমালোচনাকে গুরুত্ব দেয়নি। হোয়াইট হাউসের যোগাযোগবিষয়ক পরিচালক স্টিভেন চেউং এটিকে ‘মিডিয়ার অযথা উত্তেজনা’ বলে আখ্যা দেন।তিনি দাবি করেন, ট্রাম্প মূলত বোঝাতে চেয়েছেন যে ইরান পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্রে পরিণত হলে মার্কিন শহরগুলো হুমকির মুখে পড়তে পারত। তার দাবি, ট্রাম্পের পদক্ষেপের কারণে যুক্তরাষ্ট্র এখন বেশি নিরাপদ এবং ইরানের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী বা অর্থ নেই।