প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে শক্তিশালী ও সমন্বিত সামুদ্রিক ইকোসিস্টেম জরুরি: রাজনাথ সিং

Oct 07, 2026

প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে শক্তিশালী ও সমন্বিত সামুদ্রিক ইকোসিস্টেম জরুরি: রাজনাথ সিং

নিউস ত্রিপুরা প্রতিনিধিঃভারতের সামুদ্রিক শক্তিকে আরও প্রসারিত করতে এবং দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা সুদৃঢ় করতে একটি শক্তিশালী ও সমন্বিত সামুদ্রিক ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার ওপর জোর দিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। মঙ্গলবার বিশাখাপত্তনমের হিন্দুস্তান শিপইয়ার্ড লিমিটেডে (এইচএসএল) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই বার্তা দেন।এদিন এইচএসএল-এ প্রতিরক্ষামন্ত্রী ‘ফ্লিট সাপোর্ট শিপ-১’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন, ‘ফ্লিট সাপোর্ট শিপ-৫’-এর কিল স্থাপন করেন এবং পাশাপাশি সেখানে আধুনিকীকৃত ‘স্লিপওয়ে-৪’ ও একটি ৩০০ টনের গোলিয়াথ ক্রেনের উদ্বোধন করেন।অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজনাথ সিং বলেন, ফ্লিট সাপোর্ট শিপ-১-এর সূচনা, ফ্লিট সাপোর্ট শিপ-৫-এর কিল স্থাপন এবং এইচএসএল-এর উন্নত পরিকাঠামো উদ্বোধন—এই প্রতিটি পদক্ষেপই ভারতের সামুদ্রিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পথে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ অগ্রগতি। তিনি জানান, ‘সূর্য’ নামাঙ্কিত প্রথম ফ্লিট সাপোর্ট শিপটি ভারতীয় নৌবাহিনীর কর্মক্ষমতা, কাজের পরিধি এবং সহনশীলতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করবে। অন্যদিকে, শিপইয়ার্ডের নতুন স্লিপওয়ে ও গোলিয়াথ ক্রেন এইচএসএল-এর মতো প্রতিষ্ঠানকে বড় মাপের জাহাজ নির্মাণ প্রকল্প কার্যকরভাবে পরিচালনার ক্ষেত্রে আরও সক্ষম করে তুলবে।প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, ভারত মহাসাগর অঞ্চলে ভারতীয় নৌবাহিনী বারংবার নিজেকে প্রথম সাড়াদানকারী এবং নির্ভরযোগ্য নিরাপত্তা সহযোগী হিসেবে প্রমাণ করেছে। মানবিক সহায়তা, দুর্যোগ মোকাবিলা, জলদস্যু দমন অভিযান, নাগরিক উদ্ধার অভিযান এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে নৌবাহিনীর অবদান অনস্বীকার্য।আট দশকেরও বেশি সময় ধরে ভারতের প্রতিরক্ষা ও সামুদ্রিক চাহিদা পূরণে এইচএসএল-এর ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন রাজনাথ সিং। তিনি বলেন, ২০২৫ সালে শিপইয়ার্ডটিকে দেওয়া ‘মিনীরত্ন ক্যাটাগরি-১’ মর্যাদা প্রতিষ্ঠানটির ইতিবাচক পরিবর্তন এবং উন্নত আর্থিক কাঠামোরই প্রতিফলন।একটি শক্তিশালী জাতীয় সামুদ্রিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সমন্বয়ের আহ্বান জানিয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, নৌবাহিনী, শিপইয়ার্ড, ডিআরডিও, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিল্পক্ষেত্র, অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এমএসএমই) এবং স্টার্ট-আপ—সবাইকে একটি সমন্বিত দল হিসেবে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।জাহাজ নির্মাণে ভারতের অফুরন্ত সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এখন মূল চ্যালেঞ্জ হলো এই সম্ভাবনাকে প্রকৃত সক্ষমতা ও বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতামূলক দক্ষতায় রূপান্তর করা। এই লক্ষ্যে সময়মতো জাহাজের সরবরাহ, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, নিজস্ব নকশা তৈরির দক্ষতা, মজবুত সরবরাহ শৃঙ্খল, দক্ষ মানবসম্পদ, পরিকাঠামো সম্প্রসারণ এবং ব্যয়-সাশ্রয়ী প্রতিযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।বিগত এক দশকে দেশের প্রতিরক্ষা উৎপাদন ক্ষেত্রের রূপান্তরের কথা তুলে ধরে রাজনাথ সিং বলেন, ভারত এখন আমদানিনির্ভর প্ল্যাটফর্মের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব প্রযুক্তিতে উন্নত ব্যবস্থা ও প্ল্যাটফর্মের নকশা ও উৎপাদনে এগিয়ে চলেছে। ২০৪৭ সালের মধ্যে আত্মনির্ভর, নিরাপদ ও সমৃদ্ধ অর্থনীতির ওপর দাঁড়িয়ে বিশ্বের বুকে ভারতকে একটি মর্যাদাপূর্ণ উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলাই লক্ষ্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।