নিউস ত্রিপুরা প্রতিনিধিঃ ঊনকোটি জেলার অন্যতম শীর্ষ সারির পুজো হিসেবে পরিচিত কৈলাসহর মহকুমার চণ্ডীপুর বিধানসভা এলাকার ‘শ্রীরামপুর সংহতি সার্বজনীন দুর্গা পূজা কমিটি’। আসন্ন শারদোৎসবকে কেন্দ্র করে শুক্রবার সন্ধ্যায় এক সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করে তারা। উক্ত সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কমিটির সম্পাদক নীলমণি দাস, সহ-সম্পাদক সুধারঞ্জন দাস, কোষাধ্যক্ষ নয়ন পাল সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সদস্য-সদস্যারা। সাংবাদিক সম্মেলনে সম্পাদক নীলমণি দাস জানান, ২০১৮ সালে রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর থেকেই এই পুজোর সূচনা ঘটেছিল এবং এ বছর পুজোটি নবম বর্ষে পদার্পণ করছে। পুজো কমিটির প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে রয়েছেন চণ্ডীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী টিঙ্কু রায়। এবারের পুজোর মূল আকর্ষণ হিসেবে গুজরাটের বিখ্যাত সোমনাথ মন্দিরের আদলে কাল্পনিক মণ্ডপ তৈরি করছেন নবদ্বীপের কারিগররা এবং দেবী প্রতিমাও গড়ছেন নবদ্বীপের শিল্পীরা। দর্শনার্থীদের জন্য থাকছে চন্দননগরের বিশেষ আলোকসজ্জা। সব মিলিয়ে এবার পুজোর বাজেট নির্ধারণ করা হয়েছে ৭০ লক্ষ টাকা। পুজোর চার দিন প্রায় ৪০,০০০ দর্শনার্থীর মধ্যে মহাপ্রসাদ ও অন্য ব্যঞ্জন বিতরণের সুব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রতি সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি শিশুদের জন্য 'বসে আঁকো' প্রতিযোগিতা এবং মহা ষষ্ঠীর দিন সন্ধ্যায় মহিলাদের জন্য বিশেষ রন্ধন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে, বিজয়ী মহিলাদের জন্য থাকবে মাইক্রোওয়েভ ওভেন, এয়ার ফ্রায়ার ও মিক্সার গ্রাইন্ডারের মতো আকর্ষণীয় পুরস্কার। পুজোর সূচি প্রকাশ করে তিনি জানান, আগামী ১০ অক্টোবর মহালয়ার পুণ্য তিথিতে দেবীর চক্ষুদান করবেন মন্ত্রী টিঙ্কু রায় এবং ওই দিনই সন্ধ্যা ৫:৪৫ মিনিটে মণ্ডপ সংলগ্ন শতরূপা ঘাটে অনুষ্ঠিত হবে বিশেষ গঙ্গা আরতি। পরবর্তীতে ১৬ অক্টোবর মহা ষষ্ঠীর দিন সকাল ১০টায় পুজো মণ্ডপের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ড. মানিক সাহা। এদিকে পুজোকে কেন্দ্র করে কৈলাসহর বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক বিরজিত সিনহা সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে চাঁদাবাজির যে অভিযোগ তুলেছেন, সাংবাদিক সম্মেলনে তার কড়া জবাব দেন সম্পাদক নীলমণি বাবু। বিধায়কের সমস্ত অভিযোগ খারিজ করে তিনি বলেন, রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে এবং মন্ত্রী টিঙ্কু রায়কে কালিমালিপ্ত করতেই বিরজিৎ বাবু এই ধরনের অবান্তর ও ভিত্তিহীন মন্তব্য করছেন। ক্লাবের ১,০০০ এরও বেশি সদস্য, ব্যবসায়ী ও সরকারি কর্মীদের স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতায় এই পুজো হয় উল্লেখ করে তিনি চ্যালেঞ্জ ছোঁড়েন যে, যদি বিধায়কের কাছে চাঁদাবাজির কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণ থাকে তবে তিনি নিজে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করুতে উদ্যোগ হোক। শেষে বিতর্ক এড়িয়ে বিরোজিৎ সিনহা সহ কৈলাসহর ও সমগ্র রাজ্যবাসীকে সপরিবারে শ্রীরামপুর সংহতির পুজো মণ্ডপ দর্শনের সাদর আমন্ত্রণ জানান পুজো উদ্যোক্তারা।