নিউস ত্রিপুরা প্রতিনিধিঃ শনিবার মহালয়া। পিতৃ পক্ষের সমাপন এবং দেবীপক্ষের সূচনা। এই দুই বিশেষ তিথির সন্ধিক্ষণে পূর্বপুরুষদের আত্মার তৃপ্তি সাধনের জন্য জল এবং তিল দেওয়ার মধ্য দিয়ে পিতৃ তর্পণ করা হয়। মহালয়া উপলক্ষে এদিন রাজধানীর বিভিন্ন জলাশয় এবং হাওড়া নদীর ঘাটে চলে পিতৃ তর্পণ। বিশ্বাস করা হয়, পিতৃ পক্ষে পূর্বপুরুষদের আত্মা মত্ত লোকের প্রায় কাছাকাছি চলে আসে ।এই দিনে জল এবং তিল অর্পণ করলে তাদের আত্মার তৃষ্ণা নিবারণ হয় এবং তারা পরম শান্তি লাভ করেন। এই পরম্পরা নিয়েই শনিবার শুভ মহালয়ার পূর্ণ লগ্নে রাজধানীর বিভিন্ন জলাশয় এবং হাওড়া নদীর বিভিন্ন ঘাটে পীতৃ তর্পণ অনুষ্ঠিত হয়। প্রচুরসংখ্যক মানুষ বৈদিক মন্ত্র উচ্চারণের মধ্য দিয়ে পিতৃ পুরুষদের উদ্দেশ্যে তিন এবং জল দান করেন। এই বিশেষ মঙ্গল অনুষ্ঠান সম্পর্কে হাওড়া নদীর ত্রিনাথ আশ্রম সংলগ্ন ঘাটে পুরোহিত অঞ্জন ঠাকুর জানান, প্রতিবছর এই দিনে এই বিশেষ তর্পণের আয়োজন হয়। যুগ যুগান্তর ধরে মহালয়ার পূর্ণ লগ্নে এই পিতৃ তর্পণ চলে আসছে।
উল্লেখ্য, মহাভারতেও এই তর্পনের কথা উল্লেখ রয়েছে। মহাভারত অনুসারে দানবির কর্ণ মৃত্যুর পর স্বর্গে গেলে তাকে খাবার হিসেবে কেবল সোনা এবং মনি মানিক্য দেওয়া হয়। কারণ তিনি জীবনে সোনা দানা দান করলেও পূর্বপুরুষদের উদ্দেশ্যে অন্ন জল দান করেননি। নিজের ভুল বুঝতে পেরে যমরাজের অনুমতি নিয়ে কর্ণ ১৬ দিনের জন্য পুনরায় মর্তে ফিরে এসে পূর্বপুরুষদের জন্য জল দান করেন। কর্ণের মতে মর্ত্যলোকে কাটানো সেই ১৬ দিনই প্রকৃতপক্ষে পিতৃ পক্ষ নামে পরিচিত ।আর এর শেষ দিনটি হল মহালয়া।