নিউস ত্রিপুরা প্রতিনিধিঃ পিতৃপক্ষের শেষে সূচনা হয়ে গেল দেবিপক্ষের। আর দেবীপক্ষ শুরু হতেই আরো গতি বেড়েছে দুর্গাপুজোর সার্বিক প্রস্তুতিতে। পুজোর প্যান্ডেল তৈরি থেকে মূর্তি নির্মাণ সবেতেই এখন চলছে শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা। অন্যান্য জায়গার সাথে সমগ্র ত্রিপুরা জুড়েও এখন শারদ উৎসবের আবহ।ঊনকোটি জেলার কুমারঘাট মহকুমার শহর থেকে গ্রাম, সর্বত্রই দুর্গাপ্রতিমা নির্মাণে এখন ব্যস্ত মৃৎশিল্পীরা। কোথাও চলছে কাঠামোয় মাটির শেষ প্রলেপ দেয়ার কাজ, কোথাও প্রতিমায় পড়ছে রংয়ের শেষ তুলির টান। পুজোর দিন ঘনিয়ে আসায় প্রতিমা নির্মাণের কাজ শেষ করতে এখন চলছে শেষ মুহূর্তের তৎপরতা। তবে কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি ও শ্রমিকদের পারিশ্রমিক বেড়ে যাওয়ায় বাড়ছে উৎপাদন খরচ। অন্যদিকে, সেই অনুপাতে প্রতিমার দাম না বাড়ায় আর্থিক চাপের মুখে পড়ছেন মৃৎ শিল্পীরা।
কুমারঘাট শহরের মৃৎশিল্পী স্বপন কুমার দাস জানান, এ বছর ১৮টি দুর্গাপ্রতিমা তৈরি করেছেন তিনি। বর্তমানে প্রতিমা নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ। তবে শ্রমিকদের পারিশ্রমিক বৃদ্ধি পাওয়ায় তাঁদের নিয়োগ করে কাজ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে তার পক্ষে। ফলে নিজেকেই সামলাতে হচ্ছে অধিকাংশ কাজ। স্বপনবাবুর বক্তব্য, প্রতিমা তৈরির উপকরণের দাম বাড়লেও বাড়েনি প্রতিমা বিক্রির মূল্য। তিনি বলেন, বর্তমানে টাকা নেই মানুষের হাতে। স্বাভাবিকভাবেই বেশি দরে মূর্তি কিনতে চান না মানুষ। ফলে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাড়েনি লাভের পরিমাণ।
অন্যদিকে, রাজনগর শক্তিসংঘ গ্রামেও দেখা গেল প্রতিমা নির্মাণের কাজে মৃৎশিল্পীদের মধ্যে ব্যস্ততার ছবি। ঐ গ্রামে অন্যান্য মৃৎশিল্পীদের মতোই মূর্তি তৈরি করছেন সুধাংশু রুদ্রপাল। মৃৎশিল্পী বলেন, এ বছর ১০টি দুর্গাপ্রতিমা তৈরি করেছেন তিনি। চার থেকে পাঁচজন শ্রমিককে সঙ্গে নিয়ে চলছে নির্মাণকাজ। তবে পর্যাপ্ত রোদের অভাবে মাটির প্রতিমা শুকোতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে তাদেরকে। পাশাপাশি মূর্তি নির্মাণে ব্যবহৃত মাটি, অলংকার ও অন্যান্য উপকরণের মূল্যবৃদ্ধিতে বেড়েছে উৎপাদন খরচ। অথচ সেই অনুপাতে প্রতিমার দাম না বাড়ায় লাভের পরিমাণ কমছে বলে জানিয়েছেন মৃৎশিল্পী সুধাংশু রুদ্রপাল।