নিউস ত্রিপুরা প্রতিনিধিঃ ধলাই জেলা হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক গৌতম দেবনাথকে বদলি করার প্রতিবাদে সড়ক অবরোধে সামিল হলেন হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকার ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ আমবাসা-কমলপুর সড়ক অবরোধ করে প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেন তাঁরা। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলে এই অবরোধ কর্মসূচি। পরে ধলাই জেলা হাসপাতালের মেডিকেল সুপারের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে অবরোধ তুলে নেন আন্দোলনকারীরা।উল্লেখ্য, ধলাই জেলা হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক গৌতম দেবনাথকে সম্প্রতি গণ্ডাছড়ায় বদলি করা হয়েছে। এই বদলির খবর সামনে আসতেই ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে। তাঁদের অভিযোগ, ধলাই জেলা হাসপাতাল থেকে একের পর এক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে বদলি করা হচ্ছে। এর ফলে হাসপাতালের চিকিৎসা পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে সাধারণ ও দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে সমস্যা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন তাঁরা। এলাকাবাসীদের বক্তব্য, কিছুদিন আগেই হাসপাতাল থেকে একজন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে বদলি করা হয়েছিল। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার মেডিসিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক গৌতম দেবনাথকে অন্যত্র বদলি করা হয়েছে। তাঁদের মতে, জেলা হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক থাকা অত্যন্ত জরুরি। একের পর এক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে বদলি করা হলে স্বাভাবিকভাবেই চিকিৎসা পরিষেবার উপর তার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।এই পরিস্থিতিতে চিকিৎসক গৌতম দেবনাথের বদলির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মঙ্গলবার সকাল থেকেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন এলাকার বাসিন্দারা। তাঁরা আমবাসা-কমলপুর সড়কে অবরোধ গড়ে তুলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন। অবরোধের জেরে ওই সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং যাত্রীদের দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়।পরবর্তীতে ধলাই জেলা হাসপাতালের মেডিকেল সুপার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের আশ্বাস দেন। মেডিকেল সুপারের আশ্বাসের পর প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলা অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেন এলাকাবাসীরা।তবে ধলাই জেলা হাসপাতাল থেকে পরপর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের বদলি করার বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসীদের মধ্যে অসন্তোষ এখনও রয়েছে। তাঁদের দাবি, জেলার মানুষের উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতালে পর্যাপ্ত সংখ্যক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রাখা প্রয়োজন। এখন দেখার বিষয়, এলাকাবাসীদের উদ্বেগের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ চিকিৎসক বদলির বিষয়ে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।