নিউস ত্রিপুরা প্রতিনিধিঃ - সরকারি নথি জালিয়াতির অভিযোগে ঊনকোটি জেলার পেঁচারথল বিল্লপুরে জনতার হাতে আটক এক যুবক। তাকে আটকে প্রথমে মারধোর ও পরে মোটা অংকের অর্থ দাবি করা হয় বলে অভিযোগ। মন্ত্রীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার ছড়ানোর শর্তে টাকা মুকুবের অফার দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। অভিযুক্ত যুবক পীযুষ দেবনাথকে আটক করেছে পুলিশ। তার কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে সরকারি বহু সিল সহ জাল নথিপত্র। ঊনকোটি জেলার পেঁচারথল থানাধীন বিল্লপুরের এই ঘটনায় ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য।সোমবার রাতে পীযূষ দেবনাথ নামে ওই যুবককে আটক করেন স্থানীয় কয়েকজন। অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি বিভিন্ন নথি ও দপ্তরের সিল জাল করে নথি তৈরি করতেন তিনি। নথি জালিয়াতির অভিযোগটি ঘটনাস্থলে নিজ মুখেই স্বীকার করেছে ধৃত যুবক নিজেও।
ঘটনাস্থলে যুবককে আটকে মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ। পরে খবর পেয়ে সেখানে পৌঁছায় পুলিশ। এবিষয়ে থানার অফিসার পঙ্কজ বর্মন জানান, ঘটনাস্থলে পৌঁছে তারা যুবকের কাছ থেকে উদ্ধার করেন কুমারঘাট এবং পেঁচারথলের বিডিও, এসডিএম, মেডিকেল অফিসার সহ আরো অন্যান্য দপ্তরের সিল ও বিভিন্ন নথিপত্র। ঘটনার পর ঐ যুবকের বিরুদ্ধে মামলা নিয়ে তদন্ত শুরু করা হবে এই ঘটনায় আরো কেউ যুক্ত রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখবে পুলিশ। সরকারি দপ্তরের লোকজন এই ঘটনায় জড়িত থাকতে পারে বলে বলে ধারণা পুলিশের। পরে যুবককে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
তবে ঘটনাকে ঘিরে বিতর্কের সূত্রপাত মন্ত্রী শান্ত্বনা চাকমার নাম জড়ানোয়। ঘটনাস্থলে পীযূষের দাবি ছিল, জালিয়াতির মাধ্যমে উপার্জিত অর্থের ভাগ পেতেন শাসক দলের একাংশের কর্মীরা। এই অভিযোগে জড়িয়ে পড়ে রাজ্যের মন্ত্রী তথা এলাকার বিধায়ক সান্তনা চাকমা ও তাঁর ভাইয়ের নামও।
কিন্তু থানায় পৌঁছতেই বদলে যায় যুবকের বক্তব্য। তাঁর পাল্টা অভিযোগ, যারা তাকে সরকারি নথি জাল করার অভিযোগে আটক করেছেন তারাই মন্ত্রীকে জড়িয়ে অপপ্রচার করার জন্য চাপ দিয়েছিলেন তাকে। এমনকী, তাঁর কাছে চার লক্ষ টাকা দাবি করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ। সেই টাকা দিতে না পারায় মন্ত্রীর নাম জড়িয়ে বক্তব্য দিতে তাকে বাধ্য করা হয় বলে দাবি পীযূষের।
যদিও সরকারি নথি ও দপ্তরের সিল জালিয়াতির অভিযোগের বিষয়টি অকপটে স্বীকার করেছেন ওই যুবক। অন্যদিকে, তাঁকে মারধরের অভিযোগে বিপ্লব দে, বিভাস চৌধুরী, নিখিল সরকার সহ সাতজনের বিরুদ্ধে পেঁচারথল থানায় মামলা দায়ের করেছেন তাঁর স্ত্রী।
নথি জালিয়াতির অভিযোগ থেকে মন্ত্রীকে জড়িয়ে বিতর্ক, আর্থিক দাবি ও মারধরের পাল্টা অভিযোগ। সব মিলিয়ে বিল্লপুরের এই ঘটনায় তৈরি হয়েছে তীব্র চাঞ্চল্য। পুলিশের তদন্তেই ঘটনার প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।