এডিসি নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই খোয়াই মহকুমার বিভিন্ন এডিসি এলাকায় শুরু হয়েছে ব্যাপক নির্বাচনোত্তর সন্ত্রাস। গত দুদিন ধরে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর এবং শারীরিক নিগ্রহের ঘটনায় রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে বিস্তীর্ণ এলাকা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতেই শুরু হয়েছে নতুন উত্তেজনা। ধৃতদের মুক্তির দাবিতে ও পুলিশ অনৈতিকভাবে নির্দোষ ব্যক্তিদের গ্রেফতার করা হয়েছে। রবিবার সকাল থেকে ২০৮ খোয়াই-কমলপুর ও ১০৮বি খোয়াই-আগরতলা জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখায় তিপ্রা মথা সমর্থিতরা।নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই চাম্পাহাওর ও বাইজালবাড়ি থানা এলাকার বিভিন্ন গ্রামে বিজেপি সমর্থকদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। দুষ্কৃতীরা একের পর এক বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয় এবং আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। মারধরের হাত থেকে রেহাই পাননি মহিলারাও। এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানাগুলোতে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়। আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করে ময়দানে নামে। শনিবার রাতে চাম্পাহাওর এবং বাইজালবাড়ি থানার পুলিশ দুই থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তিপ্রা মথার ৬-৭ জন কর্মীকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশের দাবি, সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতেই এই দুষ্কৃতীদের শনাক্ত করা হয়েছে। ধৃতদের আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়।পুলিশি ধরপাকড়ের খবর ছড়িয়ে পড়তেই এদিন সকাল ১০টা নাগাদ উত্তেজিত জনতা রাস্তায় নেমে আসে। খোয়াই-কমলপুর সড়কের বেহালাবাড়ি এবং খোয়াই- আগরতলা সড়কের বেলফ্যাং এলাকায় টায়ার জ্বালিয়ে পথ অবরোধ শুরু করে তিপ্রা মথা সমর্থিতরা। তাদের দাবি, পুলিশ নিরপরাধ কর্মীদের গ্রেপ্তার করেছে এবং অবিলম্বে তাদের মুক্তি দিতে হবে।হঠাৎ করে দুটি জাতীয় সড়ক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা। রাস্তার দুদিকে আটকে পড়ে অসংখ্য পণ্যবাহী ট্রাক ও যাত্রীবাহী বাস। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েন রোগী ও নিত্যযাত্রীরা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষের ক্ষোভ চরমে পৌঁছায়।তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এলাকায় চাপা উত্তেজনা রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট মামলা নেওয়া হয়েছে এবং আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।