নিউস ত্রিপুরা প্রতিনিধিঃ ১১ দফা দাবির ভিত্তিতে সোমবার সারা দেশের সাথে রাজ্যেও 'রাজ্য বাঁচাও দেশ বাঁচাও' স্লোগানে চারটি বামপন্থী সংগঠনের ডাকে জেল ভরো আন্দোলন সংঘটিত হয়। সি আই টি ইউ, ত্রিপুরা ক্ষেত মজুর ইউনিয়ন, সারা ভারত কৃষক সভা এবং গণমুক্তি পরিষদের ডাকে আগরতলা সহ সারা রাজ্যের আরও কুড়িটি স্থানে এই আন্দোলন সংঘটিত করা হয়। আগরতলায় জেল ভরো আন্দোলন উপলক্ষে আয়োজিত মিছিলের নেতৃত্বে ছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার, বর্তমান বিরোধী দলনেতা জীতেন্দ্র চৌধুরী এবং সিটু রাজ্য সভাপতি মানিক দে। এদিন মিছিলটি রাজধানীর বিভিন্ন পদ পরিক্রমা করে প্যারাডাইস চৌমুহুরির দিকে এগিয়ে যেতে থাকলে পোস্ট অফিস চৌমুহনী এবং প্যারাডাইস চৌমুহনীর মাঝামাঝি স্থানে পুলিশ মিছিলের গতি রোধ করে এবং আন্দোলনকে বেআইনি ঘোষণা করে ।আন্দোলনে সামিল সকলকে গ্রেফতার করে। এই স্থানে বক্তব্য রাখেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার এবং বর্তমান বিরোধী দলনেতা জীতেন চৌধুরী সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার বললেন, আজকের এই আন্দোলনে বিরাট জমায়েত দেখে আত্মতুষ্টিতে ভুললে চলবে না। বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় এবং রাজ্য সরকার যদি মানুষের ১১ দফা দাবি অবিলম্বে মেনে না নেয় তবে আগামী দিনে আরো ব্যাপক পরিসরে জঙ্গি দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলন সংঘটিত করতে হবে। এই বৃহত্তর আন্দোলনের জন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি শুরু করতে হবে। এদিন আন্দোলন প্রসঙ্গে একই কথা বলেন বিরোধী দলনেতা জীতেন চৌধুরী। তিনি বলেন, আজ যারা রাজপথে নেমেছেন তাদের কথা শাসক দল শুনে নেবেন তা আমরা মনে করি না ।এটা শাসকদলকে সতর্ক করার একটা চেতাবনি মাত্র। অবিলম্বে কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকার যদি নীতি না বদলায় তবে আগামী দিনে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারকে গদিচ্যুত করার লক্ষ্যে বৃহত্তর সংগ্রাম সংঘটিত করে তোলা হবে। এদিন রাজ্যের মোট একুশটি স্থানে এই আন্দোলন হয় ।সারাদেশে এক হাজারেরও বেশি স্থানে এই আন্দোলন হয়। রাজ্যে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারের বক্তব্য অনুসারে ,জেল ভরো আন্দোলনে গ্রেপ্তার হয়েছেন ২৫ হাজার কর্মী সমর্থক ।সারাদেশে জেল ভরো আন্দোলনে গ্রেপ্তারের সংখ্যা কয়েক লক্ষ।