খোয়াই চৌমুহনীতেও চলছে জাতীয় সড়ক অবরোধ আন্দোলন,দাবি মেনে নিলে বন্ধ প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে, জানালেন আন্দোলনকারীরা

Sep 04, 2026

খোয়াই চৌমুহনীতেও চলছে জাতীয় সড়ক অবরোধ আন্দোলন,দাবি মেনে নিলে বন্ধ প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে, জানালেন আন্দোলনকারীরা

নিউস ত্রিপুরা প্রতিনিধিঃ  ২০২৪ সালের আজকের দিনেই রাজ্য সরকার ,কেন্দ্র সরকার এবং বিভিন্ন উগ্রবাদী সংগঠনগুলির মধ্যে ত্রিপাক্ষিক চুক্তি অনুষ্ঠিত হয়। চুক্তিতে বলা হয়, আত্মসমর্পণকারী বৈরীদের পুনর্বাসনের জন্য আড়াইশো কোটি টাকার প্যাকেজ ঘোষণা করা হবে। এছাড়াও আরো ২৪ টি দাবি রয়েছে। কিন্তু দুই বছর পেরিয়ে গেলেও পুনর্বাসনের জন্য কোন ব্যবস্থাই এখন পর্যন্ত গ্রহণ করছে না সরকার। বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকারের নিকট একাধিকবার দাবি জানানো হয়েছে। প্রতিটি ক্ষেত্রেই কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকার নিরব ভূমিকা পালন করে চলছে ।এই অবস্থায় বাধ্য হয়েই স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা উগ্রবাদীদের সাতটি সংগঠন শুক্রবার সকাল থেকে ৭২ ঘন্টার জন্য জাতীয় সড়ক এবং রেল অবরোধ আন্দোলন শুরু করেছে। এই সংগঠন গুলি হল যথাক্রমে এন এল এফ টি অরিজিনাল, এন এল এফ টি পরিমল দেববর্মা গোষ্ঠী ,এটিটিএফ, এল এল এফ টি নয়নবাসী জমাতিয়া গোষ্ঠী ,জয়েন্ট অ্যাকশন রিহ্যাবিলিটেশন কমিটি বা জে এ আর সি, জয়েন্ট একশন কমিটি বা জেএসি এবং পুরাতন এটিটিএফ সংগঠন। এই সাতটি সংগঠনের ডাকে শুক্রবার ভোররাত থেকে আসাম আগরতলা জাতীয় সড়কের বড় মুড়ার সাধুচন্দ্র পাড়ায় জাতীয় সড়ক অবরোধ আন্দোলন শুরু করে। রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে শুরু হয় এই অবরোধ আন্দোলন। একই সাথে ভৃগু দাস পাড়ায় শুরু হয় রেল অবরোধ আন্দোলন। পাশাপাশি খোয়াই চৌমুহনী এলাকাতেও জাতীয় সড়ক অবরোধ আন্দোলনে শামিল হন আত্মসমর্পণকারী বৈরী সংগঠনের সদস্যরা। এদিন খোয়াই চৌমুহনী এলাকায় পুরুষদের সাথে মহিলারাও সড়ক অবরোধ আন্দোলনে শামিল হন। এই অবরোধের ফলে কৈলাসহর থেকে আগরতলায় কোন যানবাহন যাতায়াত করেনি। তেমনি কমলপুর থেকেও কোন যানবাহন আগরতলায় আসেনি। এদিন অবরোধ স্থল থেকে আত্মসমর্পণকারী বৈরী সংগঠনের এক নেতৃত্ব জানান, যান চলাচল বন্ধ করে জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করা আমরা চাই না। দু'বছর আগে ঠিক এই দিনে আমরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছি। প্রায় ২৪ টি দাবি ত্রিপাক্ষিক চুক্তি অনুসারে মেনে নেওয়ার করি ছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত একটি দাবিও সরকার পূরণ করেনি। বারবার দাবি পূরণে অনীহা প্রকাশ করে চলছে কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকার। এই কারণেই একপ্রকার বাধ্য হয়েই আমরা জাতীয় সড়ক অবরোধ আন্দোলনে শামিল হয়ে কি বলে জানান তিনি। তিনি আরো জানান ,সরকার দাবি মেনে নিলে আমরা বনধ প্রত্যাহার করে নেব।এদিকে রেল এবং জাতীয় সড়ক আন্দোলনের জেরে খোয়াই ,ধলাই ,উত্তর ত্রিপুরা এবং ঊনকোটি এই চারটি জেলার রাজধানী আগরতলার সাথে যোগাযোগ সম্পূর্ণরূপে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে। এর ফলে প্রচুর সংখ্যক মানুষ নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।

বিভাগ

সর্বশেষ খবর