নিউস ত্রিপুরা প্রতিনিধিঃ একটা কথায় আছে— ‘চ্যারিটি বিগিনস অ্যাট হোম’ তা শুধু চ্যারিটি কেন? এমন আরও অনেক শিক্ষাই শুরু হয় বাড়ির চার দেয়ালের মধ্যে থেকে। শিশুরা যে পরিবেশে বড় হয়, তার বেশিরভাগই প্রতিফলিত হয় তার চরিত্রের মধ্যে। তাই মা-বাবার এ বিষয়ে একটু বেশি সতর্ক থাকা উচিত বলে মনে করেন বলিউড অভিনেত্রী রানি মুখার্জি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এমন কথাই বলেছেন তিনি। অভিনেত্রী বলেন, অভিভাবকদের পারস্পরিক সম্পর্ক, ব্যবহার, কথা বলার ধরন ও দৃষ্টিভঙ্গি— সবটাই শিশুমনে গেঁথে যায়। বড় হয়ে ওই ছেলেটির ব্যবহার মেয়েদের প্রতি কেমন হবে, তা অনেকটাই নির্ভর করে বাড়ির পরিবেশ এবং মা-বাবার সম্পর্কের ওপর। তিনি বলেন, শ্রদ্ধাশীল থাকাটাও বাড়ি থেকেই শুরু হওয়া উচিত। শিশুপুত্ররা যদি এটা দেখে বড় হয় যে, বাড়িতে তার মায়ের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়, তাহলে অজান্তেই তার মধ্যে এ শিক্ষা প্রোথিত হয়ে যায়। আমার মনে হয়, এ বিষয়ে বাবার অনেক বেশি সচেতন থাকা উচিত। কারণ তাকে দেখেই শিশুপুত্ররা বড় হচ্ছে।সমাজে নারী-পুরুষের পারস্পরিক সম্পর্কের এ শিক্ষা বাড়ি থেকেই শুরু হওয়া উচিত বলে মনে করেন রানি মুখার্জি। অভিনেত্রী বলেন, জন্মের পর থেকে মা-বাবার সঙ্গে বেশিরভাগ সময় কাটায় শিশুরা। কিন্তু তাদের মধ্যে যদি কোনোভাবে খারাপ মানসিকতা প্রকাশ পায়, সে ক্ষেত্রে শিশুরা ওটাই দ্রুত অ্যাডাপ্ট করে ফেলে। মায়ের ওপর চিৎকার, চেঁচামেচি করাও উচিত নয়। যদি তেমনটি হয়, তা হলে মায়েরও উচিত বাবার অন্যায়ের প্রতিবাদ করা বলে জানান রানি মুখার্জি। এ বিষয়ে মনোবিদরা বলছেন, একে অন্যের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠাই এ সমস্যার একমাত্র সমাধান নয়। উল্টো একে অপরের প্রতি কেমন ব্যবহার করছি, সেই সম্পর্কে সচেতন হওয়া বেশি জরুরি। শুধু বাবা নয়, বাবার বাড়ির প্রতিটি সদস্য মায়ের সঙ্গে কেমন ব্যবহার করছেন, তা দেখে শিশুরা বড় হচ্ছে। মনে মনে ভেবে নিতে পারে সেও মায়ের সঙ্গে এমন ব্যবহার করতে পারে। শুধু মা কেন, সব নারীর সঙ্গে ভালো ব্যবহার করা উচিত। তাই আগামী প্রজন্মকে সমাজ শিক্ষার পাঠ দেওয়ার ভিত মা-বাবাকেই তৈরি করে দিতে হবে।