নিউস ত্রিপুরা প্রতিনিধিঃ সাব্রুম মহকুমায় প্রকৃতি, সংস্কৃতি ও সম্প্রীতির আবহে শুরু হয়েছে ‘কালাপানিয়া উৎসব–২০২৬’। আজ ৯ মার্চ সন্ধ্যা থেকে ১০ মার্চ পর্যন্ত দুই দিনব্যাপী এই বর্ণাঢ্য উৎসব অনুষ্ঠিত হয় কলাছড়ার কালাপানিয়া নেচার পার্কে। সাব্রুম মহকুমা প্রশাসন, ত্রিপুরা সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর এবং কালাপানিয়া ফেস্টিভ্যাল আয়োজক কমিটির যৌথ উদ্যোগে এই উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।
উৎসবের উদ্বোধন করেন ত্রিপুরা সরকারের জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী শুক্লাচরণ নোয়াতিয়া। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলা পরিষদের সভাধিপতি দীপক দত্ত এবং মনু বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক মাইলাফ্রু মগ।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতচাঁদ পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারম্যান প্রভাষ লোধ, সাব্রুম মহকুমার মহকুমা শাসক সুমন রক্ষিত এবং সাব্রুমের সিনিয়র তথ্য আধিকারিক অমৃতা দাস। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবক বিপুল ভৌমিক, হরিনাথ ত্রিপুরাসহ এলাকার বহু গণ্যমান্য ব্যক্তি। অনুষ্ঠানে সভানেত্রীর দায়িত্ব পালন করেন কালাছড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান বন্দনা দাস।
আয়োজকদের মতে, এই উৎসব শুধুমাত্র বিনোদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং স্থানীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, লোকশিল্প এবং পর্যটনের বিকাশকে আরও সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দুই দিনব্যাপী এই উৎসবে রয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনা, বিভিন্ন প্রদর্শনী এবং নানা আকর্ষণীয় কর্মসূচি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিধায়ক ও জেলা পরিষদের সভাধিপতি জানান, করোনা পরিস্থিতির সময় এই মেলা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। জনজাতি অধ্যুষিত এই অঞ্চলের মানুষকে আবারও আনন্দ ও মিলনমেলার পরিবেশ ফিরিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই পুনরায় এই উৎসবের সূচনা করা হয়েছে।
এদিকে জনজাতি কল্যাণ মন্ত্রী শুক্লাচরণ নোয়াতিয়া তার বক্তব্যে বলেন, রাজ্য সরকার বর্তমানে জনজাতি সমাজের উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে একলভ্য মডেল আবাসিক বিদ্যালয় নির্মাণ, জনজাতি সমাজপতিদের সম্মাননা প্রদান এবং রাজ্যের বিভিন্ন কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করার পরিকল্পনা। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই উদ্যোগগুলির ফলে ত্রিপুরার জাতি-জনজাতিসহ সকল সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে শিক্ষার প্রসার ঘটবে এবং একটি নতুন শিক্ষাজাগরণ সৃষ্টি হবে।
তিনি আরও বলেন, গ্রামীণ এলাকায় শিক্ষার উন্নতির জন্য রাজ্য সরকার ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে এবং এই সমস্ত উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য তিনি রাজ্য সরকার ও মুখ্যমন্ত্রী ডক্টর মানিক সাহার প্রশংসা করেন।