ডবল ইঞ্জিনের স্বচ্ছ উন্নয়নে ঊনকোটি জেলার কুমারঘাটের সোনাইমুড়িতে মাঝ নদীতে ভেঙে পড়ল নির্মীয়মান সেতুর বিরাট অংশ।

Apr 09, 2026

ডবল ইঞ্জিনের স্বচ্ছ উন্নয়নে ঊনকোটি জেলার কুমারঘাটের সোনাইমুড়িতে মাঝ নদীতে ভেঙে পড়ল নির্মীয়মান সেতুর বিরাট অংশ।

নিউস ত্রিপুরা প্রতিনিধিঃ

ডবল ইঞ্জিনের স্বচ্ছ উন্নয়নে ঊনকোটি জেলার কুমারঘাটের সোনাইমুড়িতে মাঝ নদীতে ভেঙে পড়ল নির্মীয়মান সেতুর বিরাট অংশ। কাজের গুনগত মান নিয়ে প্রশ্ন এলাকার মানুষের। কাজ থেকে সরকার এবং মন্ত্রী বিধায়কদের সোর্স মানি আদায়ের ফলেই এই ঘটনা। অভিযোগ সিপিএমের। জনগণের টাকা নয়ছয় করার খেলা চলছে রাজ্যজুড়ে। ঘটনা প্রসঙ্গে অভিযোগ করলেন কংগ্রেস বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন।

কুমারঘাটের সোনাইমুড়ি তেলিয়া থেকে জগন্নাথপুর পর্যন্ত মানুষের যাতায়াতের জন্য মনু নদীর উপর সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিল বিগত বামফ্রন্ট সরকার। ২০১৭ সালে সেতু নির্মাণের জন্য ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে তৎকালীন সরকার।

পরবর্তীতে সরকার পরিবর্তনের পর বিজেপি সরকারের আমলে শুরু হয় এই সেতু নির্মাণের কাজ। শুরু থেকেই এই সেতু তৈরীর ক্ষেত্রে গুণগতমান বজায় রাখা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে থাকেন এলাকার মানুষ। অবশেষে পূর্ণ হলো ষোলকলা। নির্মীয়মান অবস্থায় মাঝ নদীতে ভেঙে পড়ল নির্মীয়মান সেতুর বিরাট অংশ। এলাকার বাসিন্দা রাজেশ মালাকার অভিযোগ করেন, সেতু নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করার ফলেই ঘটেছে এই বিপত্তি। ঘটনা নিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন ওই যুবক। বাইট--রাজেশ মালাকার (এলাকার বাসিন্দা)।

 

 স্থানীয় পূর্ত দফতরে অধীনে চলছে এই সেতুর নির্মাণ কাজ। এবিষয়ে কুমারঘাট পূর্ত বিভাগের আধিকারিক রতিরঞ্জন দেবনাথ জানান,

প্রায় ১৪০ মিটার দীর্ঘ আরসিসি ব্রিজটির নির্মাণকাজ চলছিল।

৩৫ মিটার স্প্যানের সুপার-স্ট্রাকচার ঢালাইয়ের সময় আচমকাই ধসে পড়ে ব্রিজের অংশটি। আগাম বৃষ্টিতে নদীর জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় মাটির ভার বহন ক্ষমতা কমে যায়। ফলে অস্থায়ী স্টেজিং কাঠামো ভর নিতে না পেরে ভেঙে পড়ে।

এই ব্রিজ নির্মাণ করছে কলকাতার বেসরকারি একটি নির্মান সংস্থা। প্রায় ৬ কোটি টাকার প্রকল্পটি শুরু হয়েছিল ২০২১ সালে।

দপ্তরের আধিকারিকের দাবি, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার হয়নি সেতু নির্মাণে। আন্ডারটেকিং অনুযায়ী, নিজেদের খরচেই পুনরায় সেতুটি তৈরি করবে বরাত প্রাপ্ত সংস্থা।বাইট---রতিরঞ্জন দেবনাথ (পূর্ত দফতরের আধিকারিক)

 

ঘটনার খবর পেয়ে সেখানে ছুটে যান কুমারঘাট সফরে আসা কংগ্রেস বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন। পরিদর্শনে গিয়ে ব্রীজ নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ তোলেন কংগ্রেস বিধায়ক। সরকারের কাছে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানান সুদীপ রায় বর্মন। সেতু নির্মাণে সরকার পক্ষের তরফে সংস্থার কাছ থেকে কাঠমানি আদায়ের অভিযোগ তোলেন সুদীপ। তিনি বলেন কমিশন আদায়ের ফলে গুণগত মান বজায় রাখা হয়নি সেতু নির্মাণে। রাজ্যজুড়ে জনগণের টাকা আত্মসাৎ করার খেলা চলছে বলে এদিন প্রকাশ্যে সরকারকে নিশানা করলেন কংগ্রেস বিধায়ক।বাইট---সুদীপ রায় বর্মন (কংগ্রেস বিধায়ক)।

 

সেতু ভেঙে পড়ার ঘটনায় পূর্ত দফতরের আধিকারিকের সঙ্গে দেখা করেন স্থানীয় সিপিআইএম নেতৃত্ব। তারা এবিষয়ে একটি স্মারকলিপি তুলে দেন দপ্তরের আধিকারিকের কাছে। বাম নেতা সুব্রত দাস প্রশ্ন তোলেন সেতু নির্মাণে কাজের গুণগত মান নিয়ে। ঘটনাকে ঠিকেদারী কাজ থেকে নেতা মন্ত্রীদের সোর্সমানি আদায়ের ফল বলে কটাক্ষ করেন বাম নেতা। বাইট---সুব্রত দাস (বাম নেতা)।

 

ডবল ইঞ্জিন সরকারের উন্নয়নে নির্মীয়মান সেতু ভেঙে পড়ার ঘটনায় এলাকায় ছড়িয়েছে ব্যাপক চাঞ্চল্য। ঘটনাকে ঘিরে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।

বিভাগ

সর্বশেষ খবর