'অবশেষে ঘোষণা হল ত্রিপুরা উপজাতি স্বশাসিত জেলা পরিষদ নির্বাচনের দুই নম্বর মাছমারা এবং চার নম্বর করমছড়া আসনের ভোট গণনার ফলাফল। দুটি আসনের মধ্যে একটিতে জয়ী বিজেপি। এবং অপরটিতে জয় হাসিল করে তিপ্রামথা দল।
উল্লেখ্য, শুক্রবার সকাল থেকেই ত্রিপুরার বিভিন্ন প্রান্তে শুরু হয় ২৮ টি আসনে অনুষ্ঠিত হওয়া এডিসি নির্বাচনের ভোট গণনা। ঊনকোটি জেলার মাছমারা এবং করমছাড়া আসনের জন্য অনুষ্ঠিত হওয়া নির্বাচনের ভোট গণনা হয় কুমারঘাটের বালিকা বিদ্যালয়ে। সকাল আটটা থেকে দুই কেন্দ্রের জন্য মোট ২৮ টি টেবিলে শুরু হয় গণনার কাজ। করমছড়া আসনের জন্য চার রাউন্ড এবং মাছমারা আসনের জন্য তিন রাউন্ডের গণনা শেষে ঘোষণা করা হয় চূড়ান্ত ফলাফল। এতে চার নম্বর করমছড়া আসনে ১৮০৫ ভোটের ব্যবধানে জয়ের হাসি হাসলো তিপ্রামথার প্রার্থী রতিশ ত্রিপুরা। তার প্রাপ্ত ভোট ১৪ হাজার ৩৪৮। বিজেপি প্রার্থী বিমল কান্তি চাকমাকে ১৮০৫ ভোটে হারিয়ে জয়ী হন তিপ্রামথার প্রার্থী। এবিষয়ে করমছড়া আসনের রিটার্নিং অফিসার ডেভিড এল হালাম জানান, চার রাউন্ডের গণনার পর্ব শেষে ঘোষণা করা হয়েছে করমছড়া আসনের বিজয়ী প্রার্থী রতিশ ত্রিপুরার নাম।
এদিকে দুই নম্বর মাছমারা কেন্দ্রে জয় হাসিল করে নেয় বিজেপি প্রার্থী মঞ্জুরানি সরকার। এবিষয়ে মাছমারা কেন্দ্রের রিটার্নিং অফিসার তথা কুমারঘাটের মহকুমা শাসক এন.এস চাকমা জানান, মাছমারা কেন্দ্রে নিকটতম তিপ্রামথা দলের প্রার্থী স্বপন কুমার চাকমাকে ৪ হাজার ৭১৯ ভোটে পরাজিত করে জয়ী হয়েছেন বিজেপি প্রার্থী মঞ্জুরানি সরকার। তার প্রাপ্ত ভোট ১৩,৭০০ এবং তিপ্রামথা দলের প্রার্থী পেয়েছেন ৮৯৮১ ভোট। ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়া থেকে ভোট গণনা, সবকিছুই নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছভাবে করা হয়েছে বলে দাবি করেন রিটার্নিং অফিসার। তিনি বলেন ভোটগ্রহণ থেকে ভোট গণনা সবকিছুই হয়েছে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে। এদিন মাছমারা কেন্দ্রের জন্য মোট ১৪ টি টেবিলে হয় গণনার কাজ। সমস্ত রাজনৈতিক দলের কাউন্টিং এজেন্টদের উপস্থিতিতেই করা হয়েছে ভোট গণনা। এক্ষেত্রে পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকার ভূয়োসী প্রশংসা করেন তিনি। ভোট গ্রহন থেকে ভোট গণনা পর্যন্ত কুমারঘাটে সবকিছুই শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান রিটার্নিং অফিসার।
এদিকে ফলাফল ঘোষণার পর দুই কেন্দ্রের বিজয়ী প্রার্থীদের হাতে প্রশাসনের তরফে তুলে দেওয়া হয় শংসাপত্র। ভোটে জয়লাভ করে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে করমছড়া কেন্দ্রের তিপ্রামথা দলের বিজয়ী প্রার্থী রথিশ ত্রিপুরা বলেন, মানুষের হয়ে কাজ করার জন্য যে সুযোগ তিনি পেয়েছেন তার সৎব্যাবহার করে সর্বদাই থাকবেন মানুষের পাশে। এই জয়কে বঞ্চনায় জর্জরিত পাহাড়ের মানুষের আওয়াজ বলে উল্লেখ করেন তিপ্রামথা দলের বিজয়ী প্রার্থী।
এদিকে তিপ্রামথা দলের প্রার্থী রথিশ ত্রিপুরার কাছে হেরে যাওয়াকে নিজেদের ব্যর্থতা বলে স্বীকার করেন করমছড়া আসনের বিজেপি প্রার্থী বিমল কান্তি চাকমা। পাশাপাশি জনজাতিদের সামাজিক অধিকার শুধুমাত্র বিজেপি দিয়েছে বলে জনসমক্ষে পরাজয়ের লজ্জা ঢাকার চেষ্টা করলেন করমছড়া আসনের পরাজিত বিজেপি প্রার্থী বিমল কান্তি চাকমা। শুনুন তিনি কি বলেছেন।
এদিকে নির্বাচনে জয়ী হয়ে বেশ আপ্লুত মাছমারা কেন্দ্রের বিজেপি দলের প্রার্থী মঞ্জুরানী সরকার। জয়ের শংসাপত্র হাতে পেয়ে মাছমারা কেন্দ্রের বিজেপির বিজয়ী প্রার্থী বলেন, তার এই জয় দেশের প্রধানমন্ত্রী থেকে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী সহ অন্যান্য নেতাকর্মীদের জয়। আগামীদিনে সবাইকে নিয়েই এলাকার উন্নয়নে কাজ করার এদিন দৃঢ় অঙ্গীকার করেন বিজেপির জয়ী প্রার্থী। জয়ী হয়ে বিজেপির কার্যকর্তাদের ধন্যবাদ জানান তিনি।
এদিকে ভোট গণনায় করমছড়া আসনে জয়ের হাসি হেসে ব্যাপক উচ্ছ্বাসিত তিপ্রামথার নেতাকর্মী সমর্থকেরা। তারা শুভেচ্ছা জানান দলের জয়ী প্রার্থীকে।
ভোট গণনাকে কেন্দ্র করে এদিন এলাকায় জোরদার করা হয়েছিল নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বিকল্প সড়কের ব্যবস্থা করে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল কুমারঘাট ফটিকরায়ের যাতায়াতের মূল সড়কটি। গোটা গণনা কেন্দ্র মুড়ে ফেলা হয়েছিল সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায়।
সব মিলিয়ে অবশেষে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হয়েছে কুমারঘাট বালিকা বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হওয়া দুই আসনের এডিসি ভোটের গণনার কাজ।