মথা দলের একাংশ কর্মী সমর্থকেরা  বাড়ি ঘরে ব্যাপক আক্রমণ এবং লুটপাট সংগঠিত করেছে।

Apr 19, 2026

মথা দলের একাংশ কর্মী সমর্থকেরা বাড়ি ঘরে ব্যাপক আক্রমণ এবং লুটপাট সংগঠিত করেছে।

নিউস ত্রিপুরা প্রতিনিধিঃ

গতকাল জন রায়ে মথার বিজয় সুনিশ্চিত হওয়ার পর রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে নির্বাচন উত্তর সন্ত্রাসের নানান খবর সামনে আসছে। এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যেভাবে গোটা রাজ্যজুড়ে কোথাওবা অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে, কোথাওবা বাড়িঘর ভাঙচুর হচ্ছে, কোথাওবা রাজনৈতিক কর্মীদের উপর আক্রমণের ঘটনা সংঘটিত হচ্ছে, কোথাওবা বাজার বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে দাবি করা যায় এবারের এডিসি নির্বাচনে প্রদ্যুৎ কিশোরের আহবানে হয়তো আরো বেশি সংখ্যক মানুষ ভোট দিয়েছেন, তবে প্রদ্যুৎ কিশোর বারবার দাবি করেছিলেন নির্বাচন উত্তর সন্ত্রাস হবেনা, কিন্তু সেই কথা ধোপে টিকলো না।

একই রকম ছবি পরিলক্ষিত হচ্ছে ১১ মহারানীপুর তেলিয়ামুড়া এডিসি আসনের অন্তর্গত বিভিন্ন এলাকাতে। সংশ্লিষ্ট এলাকায় বসবাসকারী বিজেপি দলের মাইনরিটি সেলের জেলা সভাপতি রশিদ মিয়া দাবি করেছেন মথা দলের একাংশ কর্মী সমর্থকেরা বিজয়ের পর ওনার বাড়ি ঘরে ব্যাপক আক্রমণ এবং লুটপাট সংগঠিত করেছে। তিনি দাবি করেছেন মাথার আক্রমণের পরিপ্রেক্ষিতে স্ত্রী সন্তান সহ তিনি এখন বাড়ি ছাড়া পাশাপাশি এটাও জানা গেছে সংশ্লিষ্ট এলাকার এক বিশ্রামাগারে প্রায় ২০ থেকে ২৫ জন বিজেপি কর্মী বিভিন্ন জায়গা থেকে আক্রমণের আতঙ্কে আশ্রয় গ্রহণ করতে বাধ্য হয়েছেন। নিশ্চিতভাবে রাজনৈতিক সন্ত্রাসের ঘটনা বা এইভাবে আশ্রয় শিবিরে থাকার ঘটনাগুলো মানায় না। কিন্তু একটা অংশ দাবি করছেন এগুলোর পেছনে দায়ী হচ্ছে এই এলাকার বিধায়ক তথা রাজ্যের জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা। সাধারণ মানুষের একাংশের স্পষ্ট বক্তব্য হচ্ছে যেভাবে এডিসি নির্বাচনের পূর্বে গোটা রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় মন্ত্রী বিকাশ উস্কানিমূলক বক্তব্য রেখেছেন বিভিন্নভাবে আক্রমণের ক্ষেত্র তৈরি করার প্রয়াস করেছিলেন সেই ঘটনাগুলো এবারের এই রাজনৈতিক সন্ত্রাস তৈরীর পেছনে বিশেষ কারণ।

তবে আর যাই হোক শুধু তেলিয়ামুরা মহারানীপুর না গোটা এলাকায় রাজনৈতিক সন্ত্রাস বা নির্বাচন পরবর্তী সন্ত্রাস বন্ধ করার ক্ষেত্রে প্রশাসন কার্যকরী ভূমিকা গ্রহণ করুক, এই দাবি বলিষ্ঠ হচ্ছে।

এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন এছাড়াও তেলিয়ামুড়া মহারানীপুর কেন্দ্রের তুই মধু এলাকাতে ইতিমধ্যে বিজেপি দলের পার্টি অফিস ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, এর পাশাপাশি জাতীয় সড়কের একেবারে সাথে অবস্থিত চাকমাঘাট বাজারের বিজেপি দলের কৃষ্ণপুর মন্ডল কার্যালয় নিরাপত্তা বাহিনী দিয়ে রাখতে হচ্ছে।

এই ঘটনাগুলো প্রমাণ করছে মুখে প্রদ্যুৎ কিশোর সহ মথা দলের নেতৃত্বরা যতই নির্বাচন পরবর্তী শান্তির দাবি করুক না কেন আদতে গতকাল ফলাফল ঘোষিত হওয়ার পর থেকে রাজ্যজুড়ে এক আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।