সুশাসনের ত্রিপুরায় থেমেনেই নিশিকুটুম্বদের দৌরাত্ম্য। ফের সামনে এলো চুরির ঘটনা। এবারে গভীর রাতে নয় একেবারে সন্ধ্যা রাতেই গৃহস্থের ঘরে হানা দিয়ে সর্বস্ব লুটে নিলো চোরচক্র। সুশাসনের ত্রিপুরায় এই ঘটনায় আবারও প্রশ্ন দেখা দিল রাজ্যের জননিরাপত্তা নিয়ে।
শুক্রবার সন্ধ্যা রাতে ঘটনাটি ঘটেছে ঊনকোটি জেলার ফটিকরায় থানাধীন ইন্দিরা কলোনী গ্রামের সুব্রত বড়ুয়ার বাড়ীতে। বাড়ীর মালিক সুব্রত বড়ুয়া জানান, এদিন বিকেলে তারা স্বামী-স্ত্রী তাদের দোকানে চলে যান। পরবর্তীতে তার পুত্র এবং পুত্রবধূ বাড়িতে তালা দিয়ে চলে যান পাশের গ্রামে চড়ক দেখতে। রাত আটটা নাগাদ ছেলে বাড়িতে এসে দেখতে পান ঘরের সমস্ত দরজা জানালা খোলা এবং ঘরের সমস্ত জিনিসপত্র অগোছালো। তা দেখে হতভম্ব হয়ে পড়েন তার ছেলে। তড়িঘড়ি খবর দেওয়া হয় ফটিকরায় থানায়। ছুটে আসে পুলিশ। বাড়ি থেকে প্রায় দশ ভরি সোনা এবং নগদ আশি হাজার টাকা নিয়ে চোরেরা পালিয়েছে বলে দাবি বাড়ি মালিকের। তার বক্তব্য দীর্ঘ বছর ধরে এই এলাকায় বসবাস করছেন তারা কিন্তু এতো বছরেও সন্ধ্যা রাতে এমন দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা আগে কখনো দেখেননি তারা।
বাড়ির পেছনের দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে ঘরের সবকটি আলমিরা ভেঙে সোনা এবং টাকা নিয়ে পালিয়েছে চোরের দল। এই ঘটনায় প্রায় ১৫ থেকে ১৬ লক্ষ টাকার ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে বাড়ির মালিককে।
এবিষয়ে বাড়ির মালিকের ছেলে সুমিত বড়ুয়া জানান, চড়ক থেকে ফিরে এসেই চুরির এই ঘটনা দেখতে পান তিনি। ঘটনার সুষ্ঠু পুলিশি তদন্তের দাবি জানান বাড়ি মালিকের ছেলে।
সন্ধ্যারাতে এমন চুরির ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।
রাজ্যে ডবল ইঞ্জিন সরকারের আমলে বড়ো বড়ো ফ্লেক্সে আর ভাষণ বাজিতে শাসক নেতা মন্ত্রীরা সুশাসনের কথা বললেও বাস্তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা যে একেবারে প্রশ্নচিহ্নের মুখে তা বরাবরের মতোই এবারও উঠে এলো সন্ধ্যারাতে সংগঠিত এই দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা থেকে। সুশাসনের ত্রিপুরায় লাগামহীনভাবে বেড়েই চলেছে এধরনের চুরির ঘটনা। যার হ্রাস টানতে এখনো রাজ্যের জোট প্রশাসন পুরোপুরি ব্যর্থ বলেই অভিমত সচেতন মহলের। আর এসব ঘটনাই যেন সামনে তুলে ধরছে ত্রিপুরার সুশাসনের আসল চেহারাকে।